ঢাকা | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ

author
Editor

প্রকাশিত : ২৪ জুলাই, ২০২৫ সকাল ৬:০২
ad003
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আন্তঃসেশন ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র-জুনিয়রের হাতাহাতির ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনজন সাংবাদিক মারধরের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন পৃথক পৃথক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

সংগঠনগুলো পৃথক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানায়। পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

ইবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক পংকজ রায়ের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা কেউ কারো প্রতিপক্ষ নয়, বরং তারা একে অপরের পরিপূরক।”

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাফিজ আহমেদের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় মর্মাহত। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংবাদকর্মীরা সবসময় পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও তাদের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করে আসছে। কিন্তু অর্থনীতি বিভাগের আন্তঃসেশন ফুটবল টুর্নামেন্ট চলাকালে হাতাহাতিতে জড়ায় বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়ররা। এ সময় সংবাদকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিভাগের শিক্ষার্থীদের দ্বারা লাঞ্ছিত করা হয়। এসময় তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়।”

শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আবসার নবী হামযার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। আহত সকলের আশু সুস্থতা কামনা করছি। ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সকল ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।”

শাখা ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, “ঘটনার পর হামলাকারীরা ঘটনার দিক পরিবর্তন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজন নারী শিক্ষার্থীকে ভিকটিম সাজিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালায়, যার লক্ষ্য ছিল প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি যে, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।”

এর আগে, আন্তঃসেশন খেলাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তিনজন সাংবাদিককে মারধর করেন। এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। শনিবার (১২ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
JJD_Online

JJD_Online

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT