পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আলোচিত সিয়াম (২০) হত্যাকাণ্ডের দুই আসামিকে বরিশাল থেকে আটক করেছে র্যাব ৮ । বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ। আটককৃত আসামিরা হলো মির্জাগঞ্জের উত্তর সুবিদখালীর আব্দুস সালামের পুত্র মোঃ রাইয়ান ও পটুয়াখালীর ডিবুয়াপুরের রফিকুল ইসলাম পিন্টুর পুত্র মোঃ রাশেদ।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, নিহত সিয়াম পটুয়াখালীর ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের মো. জুয়েল তালুকদারের এবং আহত আবদুল আল মাহমুদ মির্জাগঞ্জের বাদল হাওলাদার এর ছেলে। সম্পর্কে তারা দুজন খালাতো ভাই।
সিয়াম গত ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর মাদারবুনিয়ায় তাদের নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া তিনটার সময় সিয়াম ও তার খালাত ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন মির্জাগঞ্জের সুবিদখালী সরকারি কলেজের উত্তর পাশে বালুর মাঠে ঘুরতে আসে। সেখানে ওৎ পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাদের গতিরোধ করে তাদের পরিচয় জানতে চেয়ে তর্কে লিপ্ত হয় এবং একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে উভয়ের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করে। মারধরের ফলে সিয়াম গুরুতর আহত হলে অভিযুক্তরা নিজেদের মোটরসাইকেলে করে তাকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। বিকেল পৌনে ৪টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক সিয়ামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং বর্তমানে সে শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
এ বিষয়ে বাদী হয়ে নিহতের পিতা মো. জুয়েল তালুকদার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
র্যাব ও পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র্যাব-৮ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং র্যাব-৮ ও র্যাব-১০ এর যৌথ চৌকস সম্মিলিত অভিযানে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার যাত্রাবাড়ির ধোলাই পাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদ্বয়কে গ্রেফতার করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
মির্জাগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল সালাম ঘটনা ও আসামেদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওরা দুইজন মিলে কলেজ এলাকায় ঘুরতে গেলে বখাটেদের সাথে বাকবিতন্ডা থেকে মারামারির রূপ নেয়। তবে আসামিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে, আরও তথ্য দিতে পারব।