আজ পবিত্র শবেবরাত–লাইলাতুল বরাত; ক্ষমা, রহমত ও নাজাতের মহামূল্যবান রজনী। হিজরি সনের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত এই রাত মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অনন্য ফজিলতপূর্ণ সময়, যখন মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর অসীম করুণা ও অনুগ্রহে বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেন।
হাদিসে বর্ণিত আছে, এই পবিত্র রজনীতে আল্লাহ তায়ালা আসমানে দুনিয়ায় অবতরণ করে সূর্যোদয় পর্যন্ত ঘোষণা দিতে থাকেন–“কেউ কি ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব? কেউ কি রিজিকপ্রার্থী আছে, আমি তাকে রিজিক দান করব?” এই রাতে মানুষের আমলনামা পর্যালোচনা করা হয় এবং পরবর্তী এক বছরের হায়াত, রিজিক ও তাকদিরের ফয়সালা লিপিবদ্ধ করা হয় বলে আলেমরা উল্লেখ করেছেন।
এ রাতে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দরুদ শরিফ, তাসবিহ-তাহলিল ও ইস্তেগফারে নিজেকে নিমগ্ন রাখার তাগিদ দিয়েছেন ওলামায়ে কেরাম। একই সঙ্গে অতীতের সকল গুনাহের জন্য তওবা করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। শবেবরাতের রাত আত্মশুদ্ধি, আত্মসমালোচনা ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেয়।
পবিত্র এই রাতে মুসলমানরা কবরস্থানে গিয়ে জিয়ারতের মাধ্যমে মৃত আত্মীয়দের জন্য দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি সমাজ, দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনায় মহান রবের দরবারে বিনীতভাবে প্রার্থনা করা হয়।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, শবেবরাত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় আখিরাতের জবাবদিহিতা এবং দুনিয়াবি জীবনে ন্যায়, ইনসাফ ও তাকওয়ার পথে চলার গুরুত্ব। এই রাত কেবল ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং যাবতীয় অন্যায়, হিংসা ও পাপাচার পরিহার করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দৃঢ় অঙ্গীকারের সময়।
পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে দেশের মসজিদ-মাদরাসাগুলোতে বিশেষ ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ক্ষমা ও মুক্তির এই মহিমান্বিত রজনী মুসলিম উম্মাহর জীবনে তাকওয়া, ঈমান ও আমলের নবজাগরণ ঘটাক–এই কামনায় আজ পালিত হচ্ছে পবিত্র শবেবরাত।
লেখক : শাহ্ নাফিউল্লাহ সৈকত, গণমাধ্যমকর্মী।