যাযাদি ডেস্ক
গাজা উপত্যকায় মঙ্গলবার ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্থানীয় কর্মকর্তারা।
গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এদিন বলেন, রাফার পশ্চিমে আল-আলম গোলচত্বরের কাছে বেসামরিক লোকদের ওপর ট্যাংক, কোয়াডকপ্টার ড্রোন ও হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয়। জায়গাটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তাদের সেনারা কয়েকজন সন্দেহভাজনকে ‘নির্ধারিত রুট এড়িয়ে সেনাদের দিকে এগিয়ে যেতে’ দেখে গুলি চালায়।
এর আগে রবিবারও একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় ইসরায়েল গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছিল, যেখানে হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৩১ জন নিহত ও প্রায় ২০০ জন আহত হওয়ার কথা জানায়। তবে এই অস্বীকার স্থানীয় বাসিন্দা, এনজিও ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বক্তব্যের বিপরীত ছিল।
খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের পরিচালক আতেফ আল-হাউত জানান, মঙ্গলবার সকালে ২৪ জন নিহত ও ৩৭ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়, যাদের সবার শরীরে গুলির আঘাত ছিল। তিনি বলেন, ‘রাফার পশ্চিমে সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ জনগণের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালিয়েছে।
ওই অঞ্চলে কাজ করা এক বিদেশি চিকিৎসক বিবিসিকে বলেন, ‘মধ্যরাত ৩টা ৪৮ মিনিট থেকে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আমরা হতাহতদের সামাল দিতে পারছি না।’
অন্যদিকে আইডিএফ বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা গাজার বেসামরিক লোকদের ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে পৌঁছতে বাধা দিচ্ছে না। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে কয়েকজন সন্দেহভাজনের দিকে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়, যারা সেনাদের দিকে এমনভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল, যা হুমকি মনে হয়েছিল।
এদিকে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোকে গাজায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না, ফলে ঘটনাগুলোর সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি গাজায় সহায়তা বিতরণের দায়িত্ব নিয়েছে গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) নামের একটি সংস্থা, যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট। এই সংস্থা জাতিসংঘের সংস্থাগুলো ও অন্যান্য সাহায্য সংস্থাগুলোর জায়গা নিচ্ছে। তাদের বিতরণ ব্যবস্থা অনুযায়ী, বেসামরিক লোকদের ইসরায়েলি সেনা নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় থাকা বিতরণকেন্দ্রে যেতে হয়, যেগুলোতে সশস্ত্র মার্কিন নিরাপত্তা ঠিকাদাররা দায়িত্বে থাকে।
ফিলিস্তিনিদের সহায়তা নিতে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয় এবং ফিরে আসার সময় ২০ কেজি ওজনের বাক্স কাঁধে করে বহন করতে হয়।
জাতিসংঘের আগের পদ্ধতিতে ত্রাণ সরাসরি সম্প্রদায়ভিত্তিক ৪০০টি কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হতো, যেখানে জনসংখ্যাভিত্তিক তালিকা অনুসারে সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করা হতো।
নতুন ব্যবস্থায় ত্রাণ ‘আগে এলে আগে পাবে’ ভিত্তিতে বিতরণ হওয়ায় মানুষ সারা রাত সেখানে অবস্থান করছে শুধু সামনে জায়গা পাওয়ার জন্য, যাতে সকাল বেলা ত্রাণের জন্য দৌড়ে যেতে পারে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল এই ব্যবস্থাকে মানবিক নীতিমালার পরিপন্থী ও সহায়তাকে ‘অস্ত্রায়ন’ করার অভিযোগে তীব্র সমালোচনা করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আন্ত সীমান্ত হামলায় প্রায় এক হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হয়। তার পর থেকেই গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৫৪ হাজার ৪৭০ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে চার হাজার ২০১ জন নিহত হয়েছে ইসরায়েলের সর্বশেষ অভিযানের শুরুর পর থেকে।