ঢাকা | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীর কেউ মন্ত্রীসভায় না থাকায় হতাশ জেলাবাসী

author
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৩
ad003
স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম মন্ত্রীসভায় নোয়াখালী জেলা থেকে কারো স্থান হয়নি। এনিয়ে হতাশ জেলাবাসী। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে ক্ষোভ-হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

তবে,নবীণ প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত নতুন মন্ত্রীসভা দক্ষতার স্বাক্ষর রাখবে বলে অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

দেশের ১১ তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে জেলা সদরের শ্রীপুরের বাসিন্দা ক্রীড়া সংগঠক মোঃ জহীর উদ্দিন বলেন, “স্বাধীনতার পর এ যাবৎ সব সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ে নোয়াখালীর কেউ না কেউ  প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এমনকি বিভিন্ন সরকারের রাষ্ট্রপতি, উপ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, উপ প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও এ জেলার অনেক বর্ষিয়ান রাজনীতিবীদ সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার সময় নোয়াখালীর কৃতি সন্তান ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। সেই হিসেবে আমরা আশা করছিলাম এবার নোয়াখালীর ৫টি আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের বিজয়ের পর এ জেলার পরীক্ষিত নেতাদের কেউ না কেউ মন্ত্রী সভায় স্থান পাবেন। দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে আমাদের দাবি তিনি যেন নোয়াখালীবাসীর এ প্রত্যাশা পূরণ করেন।”

ব্যবসায়ী আশরাফুল এজাজ বলেন, নবীণ-প্রবীনের সমন্বয়ে চমৎকার মন্ত্রীসভা হয়েছে, যাদের সততা, নিষ্ঠা সম্পর্কে দেশবাসী জানেন। আমরা আশাবাদী তাদের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে। তবে, মন্ত্রী সভায় নোয়াখালীর কাউকে না রাখায় আমরা আশাহত হয়েছি।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদ নুরুল আমিন খান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “নোয়াখালী জেলা ৯১ সাল থেকে বরাবরই সবগুলো আসন দিয়েছে, ‘ওয়ান ইলেভেনের সরকারের আমলে ৬ টার মধ্যে ৫ টা এবারও হাতিয়াতে বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে ৬ টাই পাইতো কিন্তু দুর্ভাগ্য নোয়াখালী হেডকোয়ার্টারে কখনো মন্ত্রী দেওয়া হয় নাই, এতো বর্ষীয়ান নেতা থাকার পরেও অবিচার করা হলো।”

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বাসিন্দা লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ শফিক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েও মন্ত্রীত্ব পায়নি নোয়াখালী। বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে রক্ত দিয়েছেন মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকত উল্ল্যাহ বুলু, জয়নাল আবেদীন ফারুক, ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনেরা। তাদের কেউই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পায়নি। মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন সাদা পাঞ্জাবি ওয়ালা ধনীর দুলালেরা।”

জেলা স্বোচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম তারেক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন,, “জনাব Tarique Rahman 💝লিডার আপনার কাছে আমাদের প্রত্যাশা খুব বেশি ছিল না....পুরো নোয়াখালীবাসীকে হতাশার সাগরে ডুবিয়ে দিলেন.... নোয়াখালীর প্রতি আপনার সু-দৃষ্টি কামনা করি....”

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “মন্ত্রীসভায় নোয়াখালীকে উপেক্ষা করা হয়েছে, অন্তত ২/৩জন মন্ত্রী হওয়ার আশা করেছিলাম। আশাকরি বর্ধিত মন্ত্রীসভায় নোয়াখালীর বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদদের দেখতে পাবো। মন্ত্রী না পেলে অবহেলিত নোয়াখালী অবহেলিতই থেকে যাবে।নোয়াখালী বিভাগ, নোয়াখালী সিটি কর্পোরেশন, নোয়াখালী বিমানবন্দর সহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নোয়াখালীর অন্তত ২জন মন্ত্রী প্রয়োজন।”

নোয়াখালী থেকে দলের পরীক্ষিত এমপিদের কাউকে মন্ত্রী সভায় জায়গা করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT