উৎসবমুখর পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ¡াস আর অভিভাবকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী কক্সবাজারের উল্টাখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দিনব্যাপী এ আয়োজন ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল আনন্দ-উল্লাসের এক বর্ণিল আবহ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক জাবেদ আবেদনি শাহীন, সমাজসেবক আব্দু রহিম ও একরামুল হক। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সেলিম উল্লাহ। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদসহ সহকারী শিক্ষক রবিউল করিম, জাহেদুল হাসান তুহিন, হাবিবা জান্নাত, রহিমা আক্তার, জায়নুফা ছিদ্দিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী নানা আয়োজনে প্রাণচাঞ্চল্য সকাল থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বস্তা দৌড়, মার্বেল দৌড়, উচ্চ লাফ, দীর্ঘ লাফ, মেয়েদের রশি দৌড়সহ নানা ইভেন্ট ছিল বেশ উপভোগ্য। প্রতিটি খেলায় ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অংশগ্রহণ, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা ও দলগত চেতনা গড়ে তোলার বার্তা দেয়।
বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘যেমন খুশি তেমন সাজ’ প্রতিযোগিতা। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল উপস্থাপনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। তবে সবচেয়ে বেশি আনন্দ ছড়ায় গান ও নৃত্য প্রতিযোগিতা। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা অনুষ্ঠানস্থলে এক অন্যরকম আবহ সৃষ্টি করে। এছাড়া চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে তুলে ধরে ‘হল আর মালকাবানু’ শিরোনামে একটি নাটিকা পরিবেশিত হয়, যা দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। নাটিকাটির মাধ্যমে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বার্তা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা একজন শিক্ষার্থীর মন-মানসিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খেলাধুলা শরীরকে সুস্থ রাখে এবং মনকে প্রফুল্ল করে।
সভাপতির বক্তব্যে সেলিম উল্লাহ বলেন, আজকের এই বর্ণিল আয়োজন প্রমাণ করে আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু মেধাবী নয়, তারা সাংস্কৃতিকভাবেও সমৃদ্ধ। আমরা চাই, প্রত্যেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলমুখী হোক। শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়লে আমাদের গ্রামের সামগ্রিক পরিবেশ ইতিবাচকভাবে বদলে যাবে।
বিশেষ অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিয়মিত পড়াশোনা, নৈতিক শিক্ষা ও শারীরিক চর্চার সমন্বয়ই একজন শিক্ষার্থীকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তারা বিদ্যালয়ের এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার গ্রহণের সময় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ¡াস ও অভিভাবকদের আনন্দমুখর উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সার্বিকভাবে, উল্টাখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। আনন্দ, অংশগ্রহণ ও শিক্ষামূলক বার্তার সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি ছিল এক স্মরণীয় দিন।