ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং কৃষকদের লাভজনক বিকল্প ফসলের চাষে উৎসাহ দিতে কসবা উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী চাষ।
সরকারি প্রণোদনা সহায়তা এবং কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এবার উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। মাঠজুড়ে ফুটে থাকা হলুদ সূর্যমুখী ফুল যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, তেমনি ভালো ফলনের আশায় স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।
পৌষের শেষ আর ফাগুনের আগমনী রোদে চিকচিক করছে হাজারো সূর্যমুখী ফুল। চারদিকে যেন হলুদের গালিচা বিছানো। আগে যেসব জমি পতিত পড়ে থাকত, এখন সেগুলোই ভরে উঠেছে সম্ভাবনার ফসলে।
কৃষকরা জানান, উন্নত জাতের বীজ ও সার পাওয়ায় তারা সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়েছেন। রোগবালাই তুলনামূলক কম এবং অল্প সময়ে ফসল ঘরে তোলা যায় বলে এটি বেশ লাভজনক। বর্তমানে অধিকাংশ গাছে ফুল এসেছে এবং দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
একজন কৃষক বলেন, “কৃষি অফিস থেকে বীজ আর সার পেয়ে এবার সূর্যমুখী লাগিয়েছি। আগে জানতাম না এই মাটিতে এত ভালো ফলন হবে। এখন পুরো মাঠ ফুলে ভরা। আশা করছি তেলের ভালো দাম পাবো এবং খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকবে।”
কেবল কৃষিতেই নয়, সূর্যমুখীর বাগানগুলো এখন বিনোদনেরও কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন বিকেলে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন ছবি তুলতে ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়শা আক্তার জানান, সূর্যমুখী তেলের পুষ্টিগুণ বেশি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। ফলে এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, “কসবায় সূর্যমুখীর ফলন এবার অত্যন্ত সন্তোষজনক হবে বলে আশা করছি। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ফসল সংগ্রহ ও তেল প্রক্রিয়াজাতকরণে কোনো সমস্যা না হয়।”
সব মিলিয়ে, কসবায় সূর্যমুখীর এই সোনালি হাসি শুধু মাঠেই নয়, কৃষকের মুখেও ফুটিয়ে তুলছে ।