ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের ৮ ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে বাঁধা ও কর্মীদের মারধরোর ঘটনায় ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের অধিকাংশই বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী। রোববার দুপুরে আবদুল আহাদ নামে রুমিন ফারহানার এক কর্মী বাদি হয়ে সরাইল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে । মামলায় এজহার নামীয় আসামি পাঁচজন ও অজ্ঞাতনামা ১৪০/১৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, মামলার এজহার নামীয় আসামি পাঁচজন। অজ্ঞাতনামা আসামি ১৪০/১৫০ জন। ইতোমধ্যে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মহান শহিদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাঁধার মুখে পড়েন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ্যে করে “ভুয়া ভুয়া” শ্লোগান দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় রুমিন ফারহানার পুস্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলেন বিএনপির উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা। এর ফলে শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন রুমিন ফারহানা। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকরা। এতে করে মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
উল্লেখ্য, আলোচিত নারী নেত্রী রুমিন ফারহানা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের ৮ ইউনিয়ন) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে বিজয়ী হন। এখানে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়েতে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবিব পরাজিত হন। জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচন করায় রুমিন ফারহানাকে দল থেকেও বহিস্কার করে বিএনপি।