বরিশাল সদর আসনের সাবেক এমপি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশাল জেলা প্রশাসকসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউল আলম খান পলাশ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) মামলাটি দায়ের করেন। বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন মামলা রুজুর আদেশ দিয়েছেন বলে বেঞ্চ সহকারী মো. আব্দুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার সময় বরিশাল-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সামনে থেকে তার কর্মীকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার বাদী ভুক্তভোগী বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষানবিশ আইনজীবী মো. মশিউল আলম খান পলাশ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কাল একটি দুঃসময় ছিল। সারাদেশে বিএনপির প্রার্থীরা প্রচারণায় নামতে পারেনি। বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার কোনো নেতাকর্মী নিয়ে প্রচারণায় যেতে পারেননি। তখন বিএনপির প্রার্থী সরোয়ারের সাথে সার্বক্ষণিক আমি সম্পৃক্ত ছিলাম। নির্বাচনের প্রচারণার সময় তিন দিক থেকে স্পিডবোটে ধাওয়া করে বিশ্বাসের হাট নামক স্থানে সাদা পোশাকের পুলিশ আমাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। আমার চোখ বেঁধে কোথায় নিয়ে গেছে আমি জানি না। আমার ওপরে নির্যাতন করে তারা। পরে তারা বলে গ্রেপ্তারের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ওরে মারা যাবে না। সেখান থেকে আমাকে বন্দর থানায় হস্তান্তর করে। বিগত দিনে একাধিকবার চেষ্টা করেও মামলা করতে পারেননি বলে জানান বাদী। দেশে গণতন্ত্র ফেরত আসায় এখন মামলাটি করেছেন বলে জানান তিনি।
মামলার আসামিরা হলেন, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের একাদশ সংসদ নির্বাচনের মহাজোট মনোনীত প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. রুহুল আমিন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া, বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানার ওসি মোস্তফা কামাল হায়দার, পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ মো. ফয়সাল আহম্মেদ, এসআই আব্দুল মালেক, এএসআই সহিদুল ইসলাম, এএসআই রাসেল মিয়া, এএসআই এরফান হোসেন মিদুল, এএসআই রফিকুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ মিলন বিশ্বাস, এএসআই মেহেদী হাসান মোল্লা ও কনস্টেবল ফয়জুল।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, তৎকালীন সরকারের আমলে এতো বড় ঘটনার পরেও কোনো মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাটি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তীতে ৫ আগস্টের পর মশিউর আলম পলাশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। রোববার মামলার ধার্য তারিখ ছিল। বরিশালের চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন মামলা রুজুর আদেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন মজিবুর রহমান সরোয়ার। নির্বাচনী গণসংযোগ করতে স্পিডবোটে বরিশালের বিশ্বাসের হাট এলাকায় পৌঁছালে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের জোরপূর্বক গ্রেপ্তার করে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা। সেই সময় জোরপূর্বক গ্রেপ্তারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশব্যাপী সমালোচনার সৃষ্টি হয়।