তিন দিনের টানা অচলাবস্থার পর বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আদালত বর্জনের কর্মসূচি স্থগিত করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। শনিবার (২৮ ফেব্রয়ারী) এই ঘোষণা দেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। একই সঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতিও এই সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করেছে। ফলে আগামীকাল রোববার (১ মার্চ) থেকে বরিশালের আদালতে স্বাভাবিক হবে বিচার কার্যক্রম।
তথ্যমতে, গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনূসের জামিন মঞ্জুর করেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ। এই আদেশকে কেন্দ্র করে বিচারকের উপস্থিতিতেই মঙ্গলবার বিচারীক কাজে বাঁধা, এজলাসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ অন্তত ২০ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়। মামলায় সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এরপরই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার জামিন বাতিল, সংশ্লিষ্ট বিচারকের অপসারণ এবং সভাপতি মুক্তির দাবিতে টানা তিন দিন আদালত বর্জন করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। সাধারণ আইনজীবীরা এই কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে একাত্মতা প্রকাশ না করলেও তারা আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেননি। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম। ভোগান্তিতে পড়েন বিচারপ্রার্থী।
২৮ ফ্রেবুয়ারী জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মির্জা মো. রিয়াজ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাধারণ মানুষ ও বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে পূর্ব ঘোষিত আদালত বর্জনের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। ১ মার্চ থেকে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহন করতে আইনজীবীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পৃথক বিবৃতিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বরিশাল ইউনিটের আহ্বায়ক মো. নাজিম উদ্দিন আহমেদ পান্না ও সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আদালত বর্জনের কর্মসূচি স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে সব সদস্যকে বরিশালের সব আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।