বরিশালের অতিরিক্ত চীফ ম্যাট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভাঙচুর ও বিচারককে হেনস্তার মামলায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ ১১ আইনজীবী জামিন পেয়েছেন। একই মামলার আরেক আসামি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি মিজানুর রহমানকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) আসামিরা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী মোখলেসুর রহমান বাচ্চু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, বরিশাল অতিরিক্ত চীফ ম্যাট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভাঙচুর ও বিচারককে হেনস্তার ঘটনায় ১২ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। মামলায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনকে গত বুধবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। লিংকন সহ অপর ১১ জন আসামী সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
আদালতের বিচারক মামলঅর অন্রতম আসামী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি মিজানুর রহমান ছাড়া অন্যান্য সকলকে জামিন দেন। জামিন বাতিল হওয়া আসামি আইনজীবী মিজান সম্পর্কে এজাহারে উল্লেখ্য রয়েছে, এজলাসের হামলার সময়ে তিনি বিচারকের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘তুই নাম, তুই এজলাসে কেন? পুলিশের জিআরও শম্ভুকে বলেন, শম্ভু তুই বাড়াবাড়ি করে ফেলেসিস। কোর্ট থেকে বের হ’। বিচারকের উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত আইনজীবী মিজান বলেন, ‘এই থো মামলা, এই থন আপনি’।
উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুস গত সোমবার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। তাকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মঙ্গলবার আদালত বর্জন ও বিক্ষোভ করেন। ওই দিন বেলা আড়াইটার দিকে সভাপতি লিংকনের নেতৃত্বে ১০-১২ জন আইনজীবী ওই আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করে বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আইনজীবী সমিতির মূল ভবনের চেম্বার থেকে লিংকনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাকেসহ বিএনপিপন্থী ১২ জন সিনিয়র আইনজীবীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছেন অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) রাজিব মজুমদার।