কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আদমপুর গ্রামের জাতীয় পরিবেশ পদক ও জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন (এআইপি) মতিন সৈকত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-কে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়ার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।
গত মাসের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো ওই চিঠিতে মতিন সৈকত গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। কৃষক ও পরিবেশকর্মীদের পক্ষ থেকে তিনি সরকারের প্রতি সহযোগিতা ও প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন।
চিঠিতে নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষি, পরিবেশ, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, খাল-নদী ও জলাধার রক্ষা এবং বৃক্ষরোপণসংক্রান্ত অঙ্গীকার ও সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানান মতিন সৈকত। একই সঙ্গে শব্দদূষণ, বায়ু ও পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। কুমিল্লা থেকে তিনজন রাজনীতিবিদকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের জন্যও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
চিঠিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব অর্পণের আবেদন জানিয়ে মতিন সৈকত তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও কৃষি, পরিবেশ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
নিজের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি জানান, গত তিন দশক ধরে কালাডুমুর নদী পুনঃখননের জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি খিরাই নদী, মাইথারকান্দি খাল, টামটা-বিটমান খাল ও সুন্দুলপুর খাল পুনঃখননের দাবি জানান। দাউদকান্দিতে প্লাবনভূমিতে মৎস্য চাষের ‘দাউদকান্দি মডেল’ এবং বিষমুক্ত ফসল ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের উদ্যোগের কথাও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন।
চিঠিতে মতিন সৈকত লেখেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফরের অভিজ্ঞতায় পরিবেশ সচেতনতার ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। রাস্তাঘাট, হাট-বাজার ও খাল-বিল-নদী-নালায় জমে থাকা বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে। বহুজাতিক কোম্পানির উৎপাদিত পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যবহারে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাগরিক বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে কৃষিজমির উর্বরতা বাড়বে এবং নগর সৌন্দর্য রক্ষা পাবে—এমন প্রস্তাবও দেন তিনি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আইন থাকলেও সচেতনতার ঘাটতির কথা তুলে ধরে এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে বলে মত দেন।
চিঠিতে খাল-নদীর সীমানা নির্ধারণ করে তথ্যসমৃদ্ধ সাইনবোর্ড স্থাপন, শুকিয়ে যাওয়া নদী ও ক্ষতিগ্রস্ত খাল পুনরুদ্ধার, সেচের পানির উৎস সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান মতিন সৈকত। পাশাপাশি কুমিল্লার পুরোনো গোমতী নদীকে ‘গোমতী ঝিল’ উদ্যোগে রূপান্তর, নদীপথের নাব্যতা রক্ষা এবং পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।