নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খোন্দকার মোস্তাক আহমেদ (কোড নং- ১১০০২২)- সরকারি বদলির আদেশ তোয়াক্কা না করে একই স্থানে একই পদ আঁকড়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (পার-২) ডা: কামরুল হাসানের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে বান্দরবান ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আরএমও হিসেবে যোগদানের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হলেও, নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার ১০ দিন পরেও তিনি সেই আদেশ মানেননি; বরং কর্তৃপক্ষের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিনের পর দিন নিয়মবহির্ভূতভাবে এখনো চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই অফিস করে যাচ্ছেন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নোটিশ পাওয়ার ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তার বান্দরবানে যোগদানের বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হওয়ার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও তিনি চাটখিল ছাড়েননি।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের চেয়ে রাজধানী ঢাকা এবং বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ে ‘তদবির মিশনে’ বেশি সময় দিচ্ছেন যেকোনো উপায়ে বান্দরবনের বদলি ঠেকানোর জন্য। গোপন সূত্রে জানা যায়,বান্দরবান যাওয়া ঠেকিয়ে তিনি নোয়াখালী ম্যাটস অথবা লক্ষ্মীপুরের যেকোন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিজের সুবিধামতো পদায়ন নিশ্চিত করতে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত প্রায় ৯ বছর ধরে ডাঃ খোন্দকার মোস্তাক আহমেদ চাটখিলে কর্মরত আছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের এমপি সহ প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের সঙ্গে গভীর সখ্যতা গড়ে তুলে এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি এই দীর্ঘ সময় একই উপজেলায় একই পদে বহাল তবিয়তে ছিলেন। স্থানীয় আওয়ামী দোসরদের সহযোগিতায় তিনি একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, তার ৯ বছরে চাটখিলের চাকুরীর সময়কালে তিনি চাটখিল সহ পাশ্ববর্তী জেলার রামগঞ্জের এমন কোন হাসপাতাল নেই যেখানে তিনি অফিস ফাঁকি দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করেন নাই- যার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে কয়েকবার শোকোজ ও খেয়েছেন। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময় তিনি এসব অপারেশনে রোগীর জরায়ু কাটা সহ মাতৃ-মৃত্যুর ঘটনাও ঘটিয়েছেন। যা নিয়ে তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় লেখালেখি হলে তিনি ফ্যাসিষ্ট আঃলীগার দের দিয়ে, আবার কখনো জরিমানার টাকা গুনে পার পেয়ে যান।
এ বিষয় এ ডাঃ খন্দকার মোস্তাক আহমেদ এর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি সিভিল সার্জন এর সাথে কথা বলতে বলে এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে নোয়াখালী জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ মরিয়ম সিমি এর মুঠো ফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।