ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবীনগরে পতিত জমিতে গম চাষে সফল কৃষকেরা

author
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত : ৯ মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৩৭
ad003
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পতিত জমিতে গম চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষকেরা। উপজেলার  অনেক এলাকায় সেচ সুবিধা সীমিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু জমি  প্রতি বছরই অনাবাদি থাকতো। এসব জমিতে বোরো ধানের আবাদও কম হতো।

কৃষি বিভাগের পরিকল্পনা, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টা ও কৃষকদের আগ্রহে এবার সেই জমিগুলোতেই দেখা যাচ্ছে গম। ইতিমধ্যেই সবুজ গম স্বর্ণালি আভায় রূপান্তরিত হচ্ছে। কৃষকদের চোখে  নতুন সম্ভাবনা জানান দিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নবীনগর  উপজেলার শ্রীরামপুর, শিবপুর, ইব্রাহিমপুর, রছুল্লাবাদ, বড়িকান্দি, সাতমোড়া ও জিনোদপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫৫ হেক্টর পতিত জমিতে নতুন করে গম আবাদ করা হয়েছে।

উপজেলায়  মোট ৪০৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে রতনপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রাম, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের মধ্য ইব্রাহিমপুর গ্রাম ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি গম চাষ করা হয়েছে।

শুধুমাত্র শাহপুর গ্রামের একটি মাঠেই প্রায় ৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে গম চাষ করা হয়েছে। যা স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার  সৃষ্টি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ বলছে,  নবীনগর এলাকায় বর্তমানে বারি গম-৩৩ ও ডাব্লিউএমআরআই-২ জাতের গম সবচেয়ে ভালো ফলন দিচ্ছে। উন্নত জাতের গম কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বড়িকান্দি, রতনপুর, ইব্রাহিমপুর ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪ টন বীজ সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা আগামী মৌসুমে কৃষকদের মাঝে স্বল্প মূল্যে বিতরণ করা হবে।

চলতি মৌসুমে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পার্টনার প্রকল্প, বি-স্ট্রং প্রকল্প, কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প এবং রবি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় প্রায় তিন শতাধিক কৃষকের মাঝে উন্নত জাতের গম বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ  বিতরণ করা হয়েছে।

রতনপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর ৬ বিঘা জমিতে বারি গম-৩৩ আবাদ করেছেন। তিনি আশা করছেন ফলন ভালো হলে আগামী বছর আরো বেশি জমিতে গম চাষ করবেন।

ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের মধ্য ইব্রাহিমপুর গ্রামের কৃষক কাজী মোশাররফ হোসেন বলেন, সেচের অভাবে আগে এসব জমি প্রায়ই পতিত পড়ে থাকতো।

কৃষি বিভাগের পার্টনার প্রকল্পের আওতায় এ বছর তিন জন কৃষক মিলে ডাব্লিউএমআরআই-২ জাতের গম দুই একর জমিতে আবাদ করেছেন। ভবিষ্যতে আবাদ বাড়ানোর জন্য তারা প্রায় ১ টন বীজ সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।

নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, নবীনগর উপজেলায় কিছু জমি সেচের অভাবে প্রতি বছরই পতিত থাকতো। অথবা সেখানে বোরো ধান আবাদ কম হতো। এসব জমিকে কাজে লাগাতে আমরা স্বল্প সময়ের ও স্বল্প সেচের ফসল হিসেবে গম চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করি। গত দুই বছরে প্রায় ১০৫ হেক্টর জমিতে গম আবাদ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি আগামী বছর উপজেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে গম আবাদ হবে, যা কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করবে।

তিনি আরো বলেন, সেচস্বল্প এলাকায় বিকল্প ফসল হিসেবে গম চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে অনাবাদি জমির ব্যবহার বাড়বে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আয়ও বাড়বে। নবীনগরে গমের এই সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-পরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মাঝে সবচেয়ে বেশি গম আবাদ হয় নবীনগর উপজেলায়। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা কৃষকদের সহায়তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT