সরকারি চাল আত্মসাত ও নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের অপসারণ ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেষপুর বাজারে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সহস্রাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিলে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মার্চ সরকারি উদ্যোগে দুঃস্থ মহিলাদের খাদ্য সহায়তা প্রোগ্রাম (ভি. ডব্লিউ. ভি) এর এক হাজার তিনশত কেজি চাল কম থাকার অভিযোগ এনে বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরকে ইউনিয়ন পরিষদে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধরা চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরকে শারীরিক ভাবেও হেনস্তাও করে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলতে থাকে। এর জের ধরে বুধবার নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেষপুর বাজারে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে চেয়ারম্যানের অপসারণ ও শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি মহেষপুর বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চেয়ারম্যান হুমায়ুন ইতঃপূর্বেও জেলেদের চাল আত্মসাৎ, বিভিন্ন ভাতা থেকে টাকা আদায় সহ নানারকম দুর্নীতির করে পার পেয়ে গেছে। যা একাধিকবার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। এবারও সে (ভি.ডব্লিউ. ভি) প্রোগ্রামের ১ হাজার ৩০০ কেজি চাল আত্মসাতের চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেটা জানতে পেরে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চালের বস্তা গণনা করে তেরশো কেজি চাল কম পায়। তাই দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে হুমায়ুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, তা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন করা হবে বলে বক্তারা ঘোষনা দেন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভে মহেষপুর বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক সুমন তালুকদার, মোঃ আব্দুস সালাম মৃধা, হাফিজুর রহমান, মোঃ উজ্জল, সালাম সিকদার ও কৃষক হারুনসহ ইউনিয়নের কয়েক হাজার নারী পুরুষ অংশগ্রহন করেন।
এ ব্যাপারে ভি.ডব্লিউ. ভি প্রোগ্রামের দায়িত্বে থাকা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামিম পারভেজ বলেন, নিয়ামতি ইউনিয়নে দুঃস্থ মহিলাদের সহায়তা প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত ২৬৬ টি কার্ড রয়েছে। প্রতি মাসে তারা জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল পায়। চলতি মাস ও আগের ২ মাস বকেয়া সহ মোট ৩ মাসের ২৩ হাজার ৯৪০ কেজি চাল কলসকাঠি খাদ্য গুদাম থেকে আনার কথা। কিন্তু গুদাম থেকে ১ হাজার ৩০০ কেজি চাল কম আনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের সাথে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রলারে জায়গা না থাকায় এক হাজার তিনশত কেজি চাল গোডাউনে রেখে আসা হয়েছে যা পরে আনা হবে।