ঢাকা | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ায় ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কাটায় ঝুঁকিতে বসতবাড়ি

author
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১২ মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৩
ad003
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বলিপাড়া এলাকায় ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, কিছু ব্রিকফিল্ড মালিক প্রতিরাতে ডেম্পার ট্রাক ব্যবহার করে বিশাল বিল থেকে গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে আশপাশের বসতবাড়ি ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে মেনেজ করে এসব মাটি/ পাহাড় কাটা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বলিপাড়ার হোছাইনিয়া মাদরাসার পশ্চিম পাশে অবস্থিত বকসু পুকুরের উত্তর পাশের ফসলি জমি থেকে প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রায় ২০ থেকে ৩০টি ডেম্পার তথা ড্রাম্পট্রাকে করে মাটি কাটা হচ্ছে। এভাবে বিলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে আশপাশের বসতবাড়ি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে, ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে অসংখ্য পরিবার । বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে এলাকার রাস্তা-ঘাট ভেঙে যাওয়ায় মানুষের চলাচলও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা আরো জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তত (৩) তিন দফায় একইভাবে মাটি কাটা হয়েছে। এলাকাবাসী  প্রতিবাদ করলেও তাদের কথা উপেক্ষা করা হচ্ছে। বরং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদকারীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বলেন, মানুষের শেষ আশ্রয় তার ভিটেমাটি। সেই আশ্রয় রক্ষা করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই দ্রুত এ অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

খবর নিয়ে জানা যায়, প্রশাসন অবৈধ ব্রীকফিল্ড থেকে বড় অংকের টাকা গ্রহণ করে এ মাটি কাটতে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে। তাছাড়া তথা কথিত কিছু সংবাদ কর্মী পরিচয়ে উপজেলা প্রশাসকের ক্যাশিয়ার হিসাবে এ অবৈধ মাটিকাটা ও বালি উত্তোলনের টাকা উত্তোলন করার অভিযোগও রয়েছে।  ঐ তথা কথিত সংবাদ কর্মীরা উপজেলা ও থানা এলাকায় দালালী করার জন্য  পাহারাদার হিসাবে বসে থাকে বলেও ফেসবুক মিডিয়ায় অসংখ্য প্রতিবাদী পোষ্ট ও নিন্দা জানাতে দেখা যায়।

সচেতন ও মূল ধারার সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসককে মৌখিক ভাবে এ বিষয়ে অভিযোগ ও প্রতিবাদ করলেও প্রশাসক কার্যত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। এমণকি কলাউজানের অবৈধ মাটিকাটায়  লোহাগাড়া থানার একজন এ,এস,আই,র নাম চলে আসে নিউজ মিডিয়ায়। তিনি অবৈধভাবে টাকা নিয়ে মাটি কাটতে অবৈধ সহযোগিতা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয় এতে। কিন্তু তার ব্যাপারেও থানা পুলিশ বা থানা /উপজেলা প্রসাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে দেখা যায়নি।

এ ব্যাপারে জানতে ওসি লোহাগাড়া থানা আবদুল জলিলকে কল দিয়ে পাওয়া যায়নি,তাই বক্তব্য নিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলামকে মোবাইল করে এসব অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি  বিরক্তি প্রকাশ করে সাংবাদিককে অনেকটা হুমকি দিয়ে কথা বলেন, তিনি বলেন যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের নাম বলেন সৎ সাহস থাকলে, প্রতিবেদক বলেন, আমরা যে সব অভিযোগ পাই, আপনাদের অবহিত করি, আপনাদের গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া আপনার দায়িত্ব। তিনি বলেন আমরা ছুড়িপড়ে বসে নেই, কাজ করছি। 
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT