লাকসামে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হোসনে আরা আক্তার (৪৮) নামে এক গৃহিনীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে জানাযা শেষে নিহতের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
রবিবার (২২ মার্চ) সন্ধা সাড়ে ৬টায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত হোসনে আরা আক্তার লাকসাম পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নশরতপুর গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী এবং লাকসাম প্রেস ক্লাবের সাবেক আহবায়ক মনির আহমেদ’র ছোট বোন। রোববার রাত সোয়া ৯ টায় লাকসাম প্রেসক্লাবের সাবেক আহবায়ক ও নিহতের বড় ভাই মনির আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে হোসনে আরা তাঁর ছোট মেয়ে কোহিনুর আক্তার এবং নাতনীসহ ঈদের কেনাকাটা করতে একটি প্যাডেল চালিত রিকশায় পৌরশহরের দৌলতগঞ্জ বাজার যাচ্ছিলেন।
বাড়ির একটু অদূরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর লাকসামস্থ চাঁদপুর রেলগেট এলাকায় গেলে হঠাৎ দ্রুত গতির একটি মোটরসাইকেল এবং একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে রিকশার মুখোমুখী সংঘর্ষ ঘটে। এতে রিকশা চালকসহ যাত্রী হোসনে আরা, মেয়ে কোহিনুর এবং নাতনী গুরুতর আহত হয়।
এ সময় স্থানীয় লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে লাকসামের একটি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এরপর কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই সময় আহত হোসনে আরার অবস্থা অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং সর্বশেষ রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবশেষে ঈদের পরদিন রবিবার (২২ মার্চ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পারিবারিক সূত্রে আরো জানা যায়, ওইদিন একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হোসনে আরার মেয়ে কোহিনুর আক্তারের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তবে কোহিনুরের কণ্যা শিশুটির অবস্থা অনেকটা উন্নতির দিকে রয়েছে।
লাকসাম প্রেসক্লাবের সাবেক আহবায়ক ও নিহতের বড় ভাই মনির আহমেদ জানিয়েছেন, সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ১০ টায় পৌরশহরের নশরতপুর দক্ষিণ পাড়া পাঞ্জেগানা মসজিদের সামনে মরহুমার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠান শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।