ঢাকা | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাসিরনগরে সংঘর্ষের ঘটনায় আরো একজনের মৃত্যু, গ্রেপ্তার-২০

author
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ, ২০২৬ বিকেল ৪:০৮
ad003
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নির্বাচনী বিরোধ ও পূর্ব শত্রæতার জেরে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে  মাফাজুল মিয়া-(৫০) নামে আহত আরো ১জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাফাজুল মিয়া মারা যান। এনিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা হলো তিন।

নিহত মাফাজুল মিয়া উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের সিমেরকান্দি গ্রামের আব্দুন নূরের ছেলে। তিনি এলাকার একটি পক্ষের নেতৃত্বদানকারী কাশেম মিয়ার পক্ষের লোক।

মঙ্গলবার নিহত হওয়া দুই জন হলেন গোয়ালনগর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিবুল্লাহ-(৪০) ও আক্তার মিয়া-(৫০)। হাবিবুর রহমান গোয়ালনগর ইউনিয়নের সিমেরকান্দি জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন এবং স্থানীয় হান্নান মিয়ার ছেলে। অন্যদিকে আক্তার গোয়ালনগর গ্রামের হাছন আলীর ছেলে। তিনি চট্টগ্রামে শ্রমিকের কাজ করতেন।

আক্তার মিয়া স্থানীয় রহিম তালুকদারের পক্ষের এবং হাবিবুর রহমান কাশেম মিয়ার পক্ষের লোক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া -১ (নাসিরনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম.এ হান্নানের পক্ষে গোয়ালনগর ইউনিয়নে কাজ করেন বিএনপির সমর্থক রহিম তালুকদারের লোকজন। অন্যদিকে একই ইউনিয়নে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি কে.এম কামরুজ্জামান মামুনের পক্ষে কাজ করেন ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি কাশেম মিয়ার লোকজন।

রহিম তালুকদার ও কাশেমের মধ্যে নির্বাচনের আগে থেকেই প্রবাসে লোক পাঠানো, এলাকায় আধিপাত্য বিস্তারসহ নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের সময় এই বিরোধ আরো তীব্র হয়। ভোটের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার প্ররোচনার অভিযোগে রহিম তালুকদার পক্ষের সমর্থক জিয়া মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ১০ দিনের কারাদন্ড দেন। গত ১৪ মার্চ কারামুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন জিয়া।

এ সব বিরোধের জেরে গত মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন টেঁটা, বল্লম, এককাইট্টা, ছুরি, চায়নিজ কুড়াল, লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে  লিপ্ত হন। সংঘর্ষে দুই পক্ষের দুজন নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক। আহত মাফাজুল মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজহারুল হক বলেন, বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় কাশেম মিয়ার পক্ষের মাফাজুল মিয়ার  মৃত্যু হয়। 
 
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম বলেন, মাফাজুল মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা শুনেছি। আমরা বিষয়টি সত্যতা যাচাই-বাছাই করছি। কোনো পক্ষই থানায় কোনো এজাহার জমা দিতে আসেনি। সংঘর্ষেও ঘটনায় ২০জনকে  গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT