ঢাকা | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেছারাবাদে সরকারি গোডাউনের তালা ভেঙে যন্ত্রাংশ বিক্রির অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে শোকজ

author
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ, ২০২৬ সকাল ৬:৫৬
ad003
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ঈদের ছুটির সুযোগে কৃষি অফিসের সরকারি গোডাউনের তালা ভেঙে পুরনো মেশিনের যন্ত্রাংশ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে অসীম কুমার দাস নামে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে তিন কর্মদিবসের মধ্য চুরির অভিযোগের বিষয়ে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন। শিক্ষক অসীম উপজেলার ৪৯নং ব্রাহ্মণকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২৫ মার্চ (বুধবার) বিকেলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার জসিম আহমেদ তাকে শোকজ দেন।

জানাগেছে, গত রবিবার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলার বন বিভাগ অফিস সংলগ্ন কৃষি অফিসের একটি গোডাউনের তালা ভেঙে এসব যন্ত্রাংশ বিক্রির চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। ঈদের ছুটিতে আশপাশে লোকজন কম থাকায় সুযোগ নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন বিভাগের অফিস সংলগ্ন কৃষি অফিসের ওই সরকারি গোডাউনে কয়েক লাখ টাকার পুরনো পাওয়ার পাম্প ও ট্রাক্টরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংরক্ষিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অসীম কুমার দাস রবিবার সকালে সবার অগোচরে গোডাউনের তালা ভেঙে এসব যন্ত্রাংশ বিক্রির জন্য এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে ডেকে আনেন। এ সময় বন বিভাগের বাগান মালী মো. সেলিম হোসেন ঘটনাটি দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে নেছারাবাদ কৃষি অফিসের কর্মচারী রথীন কুমার ঘরামীর হস্তক্ষেপে বিক্রিরত মালামাল উদ্ধার করে পুনরায় গোডাউনে সংরক্ষণ করা হয়।

ভাঙারি ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, অসীম কুমার দাস তার দোকানে গিয়ে বন্ধ পেয়ে দোকানের সাটারে দেওয়া মোবাইল নম্বরে ফোন করেন এবং কিছু পুরনো মালামাল বিক্রি করতে চান। পরে তিনি মালামাল কিনতে গেলে দেখতে পান সেগুলো সরকারি গোডাউনের। প্রথমে তিনি কিনতে রাজি না হলেও অসীম কুমার দাস তাকে বলেন, অফিসের কর্মকর্তাদের নির্দেশেই এসব বিক্রি করা হচ্ছে এবং তাদের কিছু টাকা দিতে হবে। তবে স্থানীয় লোকজন দেখে ফেলায় তিনি মালামাল নিয়ে যেতে পারেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী সেখানে প্রায় ২০০ কেজি ওজনের পুরনো পাওয়ার টিলার ও পাওয়ার পাম্পের যন্ত্রাংশ ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী বন বিভাগের বাগান মালী সেলিম হোসেন জানান, সকালে বাগানে পানি দেওয়ার সময় তিনি দেখেন গোডাউনের সামনে পুরনো পাওয়ার টিলার ও পাওয়ার পাম্পের যন্ত্রাংশ ডিজিটাল মেশিনে ওজন করে ভাঙারি দোকানদারের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান অসীম কুমার দাস গোডাউনের তালা ভেঙে ওই যন্ত্রাংশ বিক্রি করছেন। ঈদের ছুটির সুযোগে সরকারি মালামাল এভাবে বিক্রি করা ঠিক হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক অসীম কুমার দাস এ বিষয়ে বলেন, “আমার বাসার সামনেই কৃষি অফিসের গোডাউন। এটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সেখান থেকে পাওয়ার পাম্পের কয়েকটি যন্ত্রাংশ (প্রায় ২০ কেজির মতো) বিক্রি করতে চেয়েছিলাম। এটি আমার ভুল হয়েছে।”

নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, তিনি ঈদের ছুটিতে থাকলেও বিষয়টি জানার পর কৃষি অফিসের কর্মচারী রথীন কুমার ঘরামীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তিনি মালামাল উদ্ধার করে পুনরায় গোডাউনে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একটি চিঠি প্রদান করা হয়েছে। চিঠির জবাবের পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নেছারাবাদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোন্দকার জসিম আহমেদ জানান, যেহেতু ঘটনাটি ঈদের বন্ধে হয়েছিল। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে বুধবার বিকেলে তাকে শোকজ করা হয়েছে।  

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT