সবসময় শুনছি একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে কবর দেওয়া হয়েছে। এবার চোখের সামনে দেখছি। ৪টি কবর খোঁড়া হয়েছে। এক পরিবারের ৪জনকে পাশাপাশি কবর দেওয়া হবে। এর-আগে আমরা এমন দৃশ্য আমাদের গ্রামে দেখিনি। কথাগুলো বলছেন মো. নূর হোসেন নামে এক চা-দোকানী। তার দোকানের পাশে কবরস্থানে খোঁড়া হয়। একসাথে ৪টি খবর। সেই কবরগুলোতে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মুফতি আব্দুল মমিন, তার স্ত্রী নিলুফা আফরোজ ঝর্ণা, মেয়ে লাবিবা ও ছোট ছেলে সাহেদ আশরাফে।
সৃষ্টিকর্তার কৃপায় বাবা-মা, ভাই-বোনের পাশে থাকা একই গাড়িতে প্রাণে বেঁচে যান ১২ বছর বয়সী আবরার। সেই গাড়ির বাম-পাশের পিছনে বসা ছিলেন। চোখের সামনে সপরিবারে সকলের মৃত্যুতে সেই এখন বাকরুদ্ধ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের (৫নং ওয়ার্ড) তিতারকান্দি গ্রামে গেলে কথাগুলো বলেন স্থানীয় চা-দোকানী নূরু হোসেন।
এর-আগে,বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কালাকচুয়া এলাকায় যাত্রীবাহী স্টার লাইন বাসের ধাক্কায় প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে যায়। যার ফলে প্রাইভেটকারে থাকা চালকসহ একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হন।
নিহত মুফতি আব্দুল মমিন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদের (ভগ্নিপতি) ছোট বোন ঝর্ণার স্বামী। নোয়াখালী জেলার সেনগাব উপজেলায় মুফতি আব্দুল মমিনের বাড়ী হলেও তিনি বিয়ে পর থেকে থাকতেন ঢাকার মোহাম্মদপুর ও লক্ষ্মীপুরের তিতারকান্দি গ্রামে।
(আজ) শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর তিতারকান্দির গ্রামের বশা হাজী পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ ব্যক্তির মরদেহ।