ঢাকা | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে তেল সংকটে নৌযান চলাচল বন্ধের আশঙ্কা

author
মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২০
ad003
তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কক্সবাজার–মহেশখালী নৌপথে স্পিডবোট চলাচলে।  ডিজেল ও পেট্রোলের অনিয়মিত সরবরাহ এবং দাম বৃদ্ধিতে নাজেহাল নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা। 

স্থানীয় স্পিডবোট মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়মতো জ্বালানি তেল সরবরাহ না হওয়ায় তাদের প্রতি লিটার অকটেন কিনতে হচ্ছে ১৩০-১৫০ টাকায়। অথচ সরকারি তেল সংস্থার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এই দাম অনেক বেশি।

তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সংকটে ইতিমধ্যেই বেশিরভাগ স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। মহেশখালী-কক্সবাজার নৌরুটে চলাচলকারী প্রায় ১৩০টি স্পিডবোটের জন্য দৈনিক প্রায় ৪ হাজার ৯০০ লিটার তেলের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে তেল পাচ্ছে শুধুমাত্র ১ হাজার লিটার যার কারণে 
অধিকাংশ বোট চালানো যাচ্ছে না। বর্তমানে এই পথে মাত্র ২৫-৩০টি স্পিডবোট চলাচল করছে।যেখানে জনপ্রতি ১০০ টাকার ভাড়ায় নেওয়া হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। পরিস্থিতির অবনতি হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই নৌপথের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্পিডবোট মালিক শাহীন আরাফাত বলেন, "আগে আমার তিনটি বোট চলত। এখন একটি বন্ধ হয়ে গেছে। তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে, সরবরাহও নেই।"

আরেক মালিক মিছবাহ সিকদারের ১৫টি বোটের মধ্যে মাত্র ২টি চালু রয়েছে। বোট মালিক ও শ্রমিকরা জানান, তেল সংকট অব্যাহত থাকলে মহেশখালী থেকে কক্সবাজার হয়ে জরুরি রোগী পরিবহনও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই জ্বালানি সংকটে অনেক জরুরি রোগীকে নির্ধারিত সময়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

তেল সংকট ও সীমিত সংখ্যক বোট চলাচলের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, কিছু বোট চালক সংকটের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।

এদিকে, ২৯ মার্চ (রবিবার) বিকেলে গোরকঘাটা লাগোয়া বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ তেলের দোকান বন্ধ রয়েছে। তেল সরবরাহকারী দোকান মালিকদের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য- বোট মালিক ও শ্রমিকরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে এক বৈঠকে অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তবে তেল সংকট নিরসনে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ চান তারা।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, "বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানির সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা তেল সরবরাহ করেছেন বলে জানিয়েছেন।"

তবে স্থানীয় বোট মালিক কায়ছার সিকদার দাবি করেছেন,প্রয়োজনীয় তেল আমরা পাচ্ছি না যার কারণে যাতায়াত বন্ধ হওয়ার পথে। প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ এখনো নিয়মিত হয়নি,নিয়মিত হলে পুণরায় আগের নিয়মে আমরা ফিরে আসবো।

বোট মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী সাধারণ দ্রুত তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করেন, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে, যা দুই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও জরুরি সেবা বহনে বিরাট প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT