ঢাকা | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাউদকান্দিতে শিশুনির্যাতন: পলাতক অভিযুক্তদের সন্ধানে পুলিশ তৎপর

author
দাউদকান্দি প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৩১ মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫
ad003
কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হাসানপুর গ্রামে উম্মে হাবিবা (৮) নামের এক শিশুকে নির্জন ভুট্টাখেতে নিয়ে নির্যাতনের পর তার ব্যবহার কৃত স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৯টা থেকে দুপুরের মধ্যে শিশুটিকে কৌশলে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তার কানের দুল ও গলার স্বর্ণের চেইন খুলে নিয়ে তাকে গুরুতর অবস্থায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পরিবারকে খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকদের মতে, শিশুটির শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঘটনার পরবর্তী তথ্যে জানা যায়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেহেদী (পিতা: গিয়াস উদ্দিন), যিনি শিশুটির আপন জেঠাতো ভাই। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

শিশুটির বাবা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমার মেয়ের ওপর যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দ্রুত অপরাধীর গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির নেতারাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আবদুল হালিম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি এখনো স্পষ্টভাবে পুলিশের কাছে তুলে ধরেননি। তবে অভিযোগ না থাকলেও সম্ভাব্য অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাকে আটক করা গেলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT