ঢাকা | রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে ‘ফ্যাটি লিভার’: নীরব ঝুঁকিতে স্বাস্থ্য

author
যাযাদি রিপোর্ট

প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৯
ad003
একসময় ফ্যাটি লিভার রোগকে মূলত বয়স্কদের সমস্যা হিসেবে ধরা হলেও বর্তমানে এটি দ্রুতগতিতে তরুণদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না, ফলে অনেকেই অজান্তেই ঝুঁকির মধ্যে থাকছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাপনই এই সমস্যার প্রধান কারণ। অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া, চিনি সমৃদ্ধ পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের নিয়মিত গ্রহণ লিভারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ জাতীয় চিনি শরীরে প্রবেশ করে লিভারে চর্বি হিসেবে জমা হতে থাকে, যা ধীরে ধীরে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। এর পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বসে থাকা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসব কারণে এখন ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যেও ফ্যাটি লিভার রোগ ধরা পড়ছে—যা আগে তুলনামূলকভাবে বিরল ছিল।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মুহাম্মদ মোহাম্মদ সরদার বলেন, “অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে তরুণদের মধ্যে ফ্যাটি লিভার রোগ দ্রুত বাড়ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই রোগটি শুরুতে কোনো লক্ষণ দেখায় না, ফলে অনেকেই দেরিতে বিষয়টি জানতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, “সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এটি লিভারে প্রদাহ, স্থায়ী ক্ষতি, সিরোসিস এমনকি লিভার ক্যানসার পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগ অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রতিরোধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ফাস্ট ফুড ও চিনি জাতীয় পানীয় কমানো, সুষম ও ঘরে তৈরি খাবার গ্রহণ, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা এবং শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানো। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে।

চিকিৎসকদের মতে, লিভারের পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। তাই সময়মতো সচেতনতা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
তরুণদের মধ্যে নীরবে ছড়িয়ে পড়া এই রোগ প্রতিরোধে এখনই সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, প্রতিরোধ সবসময়ই  চিকিৎসার চেয়ে সহজ।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT