লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী পান চাষ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। কম খরচ, দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন এবং তুলনামূলক বেশি লাভের কারণে দিন দিন এই চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বইছে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া।
উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ চর আবাবিল, চর মোহনা, বামনী, কেরোয়া ও চরপাতাসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য পান বরজ। একসময় যেখানে মৌসুমি ফসলের উপর নির্ভরশীল ছিলেন কৃষকরা, এখন সেখানে সারা বছর আয় নিশ্চিত করছে পান চাষ।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে পান বরজ তৈরি করতে শুরুতে এক থেকে সোয়া এক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তবে বরজ স্থাপনের পর দ্বিতীয় বছর থেকেই উৎপাদন খরচ কমে আসে এবং প্রতি বিঘায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব হচ্ছে।
চর আবাবিল এলাকার পান চাষি মফিজুর রহমান বলেন, “প্রথম বছর একটু বেশি খরচ হলেও পরের বছর শুধু পরিচর্যায় খরচ হয়। বৈশাখের শেষ থেকে ভাদ্র পর্যন্ত পানের ভরা মৌসুমে ভালো দাম পাওয়া যায়। শীতকালে উৎপাদন কম থাকায় তখন দাম আরও বেশি থাকে।
রায়পুর পৌর শহরের নতুন বাজার, হায়দরগঞ্জ ও ক্যাম্পেরহাটে প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয় পান কেনাবেচা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এসব বাজারে প্রতিদিন কোটি টাকার পান লেনদেন হয়, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রায়পুরে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। যদিও ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতির কারণে আগের বছরের তুলনায় চাষের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। এর আগে প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছিল।
রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম জানান, পান চাষকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই খাতে আরও বিস্তার ঘটবে বলে আশা করছি।
স্থানীয়দের মতে, পান এখন শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী ফসল নয় এটি হয়ে উঠেছে গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে রায়পুরের পান চাষ দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।