মালয়েশিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রলার আন্দামান সাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা থেকে অন্তত ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, নিখোঁজদের পরিবারগুলো কাটাচ্ছেন উৎকণ্ঠায় দিন।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন রাজাখালী ইউনিয়নের মিয়াপাড়া, হাজিরপাড়া ও নতুন ঘোনা এলাকার একাধিক যুবকসহ টৈটং ইউনিয়নের আরও দুজন। পাশাপাশি বাঁশখালীর পুইছড়ি ইউনিয়ন থেকেও অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ থাকার তথ্য মিলেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ ও ৬ এপ্রিল সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। ৯ এপ্রিল আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের তথ্যমতে, এ ঘটনায় আড়াই শতাধিক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ এহেসানের মা মোহসেনা বেগম বলেন, ছেলে বলেছিল পৌঁছে ফোন দেবে, সেই ফোন আর আসেনি।
সোহেলের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, সে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল, এখন কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।
রহিমের স্ত্রী আজবাহার বেগম বলেন, ভালো রাখার স্বপ্ন দেখিয়ে গিয়েছিল, এখন আমি অসহায়।
রাশেদুল ইসলামের নানী ছফুরা খাতুন বলেন, নাতিটা ফিরে আসুক এটাই একমাত্র দোয়া।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টেকনাফকেন্দ্রিক একটি মানবপাচারকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে সাগরপথে পাঠাচ্ছে। জনপ্রতি ২০-৫০ হাজার টাকা নিয়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়, যা অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি জানা গেছে এবং নিখোঁজদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অভিযোগ না পেলেও অনুসন্ধান চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক শরীফ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জড়িত দালালদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।