ঢাকা | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে আঙুর চাষে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

author
চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৩৯
ad003
একসময় বাংলাদেশের মাটিতে আঙুর চাষ ছিল অনেকটাই কল্পনার বিষয়। বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত এই ফল দেশের আবহাওয়ায় টিকবে কি না- নিয়ে ছিল নানা সংশয়। তবে সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে চাঁদপুরে আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন এক তরুণ উদ্যোক্তা।

চাঁদপুর সদর উপজেলা-এর চাঁদপুর-মতলব সড়কের কালিভাংতি এলাকায় গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমধর্মী একটি আঙুর বাগান- “প্রধানিয়া এগ্রো”। এই বাগানের উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান প্রধানিয়া। তার হাত ধরেই স্থানীয়ভাবে আঙুর চাষে এসেছে নতুন সম্ভাবনা।

বাগানে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সারি সারি মাচার ওপর ছড়িয়ে থাকা আঙুর লতা। সবুজ আঙুরের থোকা ঝুলে আছে লতায় লতায়—যা দেখতে অনেকটাই বিদেশি আঙুর বাগানের মতো। স্থানীয়দের কাছে এটি এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

কামরুজ্জামান প্রধানিয়ার আঙুর চাষের যাত্রা শুরু হয়েছিল একেবারেই শখ থেকে। অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন- বাংলাদেশে আঙুর চাষ সম্ভব নয় বলে। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। বরং সেই কথাগুলোই তার অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়।

মাত্র ২০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন আঙুর চাষ। শুরুতে আবহাওয়া, মাটি ও পরিচর্যার নানা সীমাবদ্ধতা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ধৈর্য, পরিশ্রম এবং নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে সফলতা অর্জন করেন। বিদেশ থেকে উন্নত জাতের চারা এনে সেগুলো স্থানীয় পরিবেশে মানিয়ে নেওয়াও ছিল তার বড় অর্জন।

ছোট্ট উদ্যোগ এখন বড় আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে তার তিনটি প্রজেক্টে আঙুর চাষ চলছে। তার সংগ্রহে রয়েছে বিশ্বের ১৮টি দেশের প্রায় ৮৫টি জাতের আঙুর গাছ- যা দেশের প্রেক্ষাপটে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

বাগানে ভালো ফলন হওয়ায় ইতোমধ্যে আঙুর বাজারজাতও শুরু হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হচ্ছে এসব আঙুর।

প্রতিদিনই চাঁদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এই বাগান দেখতে আসছেন। কেউ ঘুরতে, কেউ শিখতে, আবার কেউ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ভিডিও দেখে অনেকেই সরাসরি এসে অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন।

দর্শনার্থী নাজমুল ইসলাম বলেন, ভিডিওতে যা দেখেছি, বাস্তবে তার চেয়েও সুন্দর। এখানে এসে মুগ্ধ হয়েছি। আমিও আঙুরের ছাদ বাগান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান জানান, করোনাকালীন অবসর সময়েই ছাদ বাগান দিয়ে তার আঙুর চাষের শুরু। পরে ২০২৪ সালে প্রথম মাঠ বাগান এবং ২০২৫ সালে আরও দুটি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রতি বছর আমাদের প্রকল্প বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি। আঙুরের পাশাপাশি অন্যান্য ফল নিয়েও কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য সারাদেশে আঙুর চাষ ছড়িয়ে দেওয়া।

তিনি নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, বেকার না থেকে কিছু একটা করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে আঙুর চাষ শুরু করতে পারেন। আধুনিক কৃষির দিকে সবার নজর দেওয়া উচিত।

চাঁদপুরের মাটিতে আঙুর চাষের এই সফলতা শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা বহন করছে। সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ও পরিশ্রম থাকলে যে অসম্ভবও সম্ভব- তারই বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন কামরুজ্জামান প্রধানিয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT