পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২০ হাজার ৫৫৩ হজযাত্রী। সরকারি-বেসরকারি মোট ৫১টি ফ্লাইটে সৌদিতে পৌঁছান তারা। হজে গিয়ে নইম উদ্দীন মন্ডল (৭৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা ও সৌদি আরবের সূত্রে হজ বুলেটিনের আইটি হেল্প ডেস্ক জানিয়েছে, বুধবার রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৯টি ফ্লাইটে সৌদি আরব পৌঁছান ৭ হাজার ৮৫৫ হজযাত্রী, সৌদি এয়ারলাইনসের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ১৫ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ১৪টি ফ্লাইটে ৫ হাজার ৬৯৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছান। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ২ হাজার ৮৩০ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি পৌঁছান ১৭ হাজার ৬৯৩ হজযাত্রী।
এদিকে চলতি বছর পবিত্র হজপালনে সৌদি আরবে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১ বাংলাদেশি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। নইম উদ্দীন মন্ডল নামে ওই ব্যক্তির বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায়।
গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এ দিন ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট সৌদির উদ্দেশে যাত্রা করে। আগামী ২১ মে শেষ হবে এ ফ্লাইট পরিচালনা। ৩০ মে থেকে পুনরায় হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। শেষ হবে ৩০ জুন।
চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে যাবেন ৫ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।
বিষয়টি মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেলকে জানানো হয়েছে। কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে Federal Bureau of Investigation (এফবিআই)-কে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিকটবর্তী হাসপাতাল, বিমানবন্দর ও ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে খোঁজ নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পায়নি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ বৃষ্টির সঙ্গে তাদের কথা হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। সহপাঠীদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর পরিবার পুলিশকে অবহিত করে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিবার আরও জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে এবং সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে।
এদিকে সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা বৃষ্টির নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। কেউ তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আকাশ স্মৃতি নামের এক সহপাঠী বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বন্ধুর নিরাপদ ফিরে আসার আশায় সবাই অপেক্ষা করছেন। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়ায় সহপাঠীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে।
নোবিপ্রবির অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাতেহা নুর রুবেল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং দ্রুত তাকে খুঁজে বের করতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।