ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন ভেঙ্গে ৬টি গ্রাম নিয়ে প্রস্তাবিত বরিশল ইউনিয়ন গঠন করে আখাউড়া উপজেলার সাথে সংযুক্ত হওয়ার বিষয়ে গণ শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে বরিশল ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত গণ শুনানীতে ৬ টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিল। ৬ টি গ্রাম হলো বরিশল, বৈষ্টবপুর, কোড্ডা, কোড়াবাড়ি, শ্যামনগর ও চান্দি।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো: আবু সাঈদ উপস্থিত থেকে শুনানী করেন। সদর উপজেলা থেকে আলাদা হয়ে আখাউড়া উপজেলায় একিভূত হওয়ার আগ্রহের কারণ সম্পর্কে এলাকাবাসীর মতামত শুনেন।
এসময় উল্লেখিত ৬ টি গ্রাম থেকে ২/৩ জন করে প্রতিনিধি আখাউড়া উপজেলা সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ এবং যুক্তি তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
গণশুনানীতে বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য সোহরাব মিয়া, ইউপি সদস্য বাছির খাঁ, ইউপি সদস্য টিপু সুলতান, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. সেলিম ভূইয়া, সালাউদ্দিন ভূইয়া, দানিস খলিফা, নূরে আলম সিদ্দিকী, বাহাউদ্দীন ভূইয়া মাছুম, টিটু প্রমুখ।
বক্তার বলেন, তাদের বাড়ি থেকে জেলা সদর অনেক দূরে। সদরে গিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম, চিকিৎসাসহ অন্যান্য সরকারী সেবা নিতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। পক্ষান্তরে আখাউড়া উপজেলা সদর তাদের খুব কাছে। ওই এলাকার বহু লোকের ব্যবসা বাণিজ্য আখাউড়ায়। তাদের ছেলেমেয়েরা আখাউড়ায় পড়ালেখা করে। উপজেলা হাসপাতালও সন্নিকটে। আখাউড়ার সাথে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব সহজ। পুলিশি সেবা পেতেও সুবিধা। বিধায় আমরা আখাউড়া উপজেলার সাথে সংযুক্ত হতে চাই।
শুনানী শেষে জেলা প্রশাসক, মোঃ আবু সাঈদ জানান, আখাউড়া উপজেলার একীভূত হওয়ার লক্ষ্যে ৬ টি গ্রামের শুনানী হয়েছে। এলাকাবাসী এ বিষয়ে তাদের যুক্তি তুলে ধরে বক্তব্য রেখেছেন। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন পাঠাবো।
উল্লেখ্য, জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া ৬টি গ্রাম নিয়ে নতুন ইউনিয়ন গঠনের জন্য কিছু দিন পূর্বে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠান। নতুন ইউনিয়ন গঠন করে পাশ্ববর্তী আখাউড়া উপজেলার সাথে একীভূত হওয়ার দাবী জানান এলাকাবাসী।