ঢাকা | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজয়নগরে কৃষ্ণচূড়ার ফুলে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপে সৌন্দর্য্য

author
বিজয়নগর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬
ad003
সারা দেশের মতোই ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর পথে-প্রান্তরে চোখ ধাঁধানো টুকটুকে লাল কৃষ্ণচূড়া ফুলে সেজেছে গ্রীষ্মের প্রকৃতি। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বৈশাখের রোদ্দুরের সবটুকু উত্তাপ গায়ে মেখে নিয়েছে রক্তিম পুষ্পরাজি।

বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি আর অনেক বহু আন্দোলনের পটভূমির সঙ্গে কৃষ্ণচূড়া গাছের সম্পর্ক খুব নিবিড়। কবি সাহিত্যিকদের ছড়া-কবিতা-গানে উপমা হিসেবে নানা ভঙ্গিমায় এসেছে এই ফুলের সৌন্দর্য্য বর্ণনা। বৈশাখের শেষ প্রান্তে আকাশে প্রচণ্ড তাপদাহের মাঝে প্রকৃতি যেন নিজেও তার প্রাণ ফিরে পায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্যে। গ্রীষ্মের এই নিস্প্রাণ রুক্ষতা ছাপিয়ে প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়া নিজেকে মেলে ধরছে আপন মহিমায়। 

গ্রাম বাংলার অপরূপ প্রতিচ্ছবিকে আরও নতুন করে রূপে সাজিয়ে দিচ্ছে এই ফুল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এ কৃষ্ণচূড়া গাছ দাঁড়িয়ে থাকা বেশ  সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে গাছে গাছে এমন টাই মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া। যেন লাল রঙে কৃষ্ণচূড়ার পসরা সাজিয়ে বসে আছে প্রকৃতি,যে কারো চোখে এনে দিচ্ছে শিল্পের দ্যোতনা। কৃষ্ণচূড়া ফুলে সেজেছে গ্রীষ্মের প্রকৃতি। সবুজ চিরল পাতার মাঝে যেন আগুন জ্বলছে। গ্রীষ্মের ঘামঝরা দুপুরে কৃষ্ণচূড়ার ছায়া যেন প্রশান্তি এনে দেয় অবসন্ন পথিকের মনে। তাপদাহে ওষ্ঠাগত পথচারীরা পুলকিত নয়নে, অবাক বিষ্ময়ে উপভোগ করেন এই সৌন্দর্য্য।

 এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালে  ও গ্রামে কৃষ্ণচূড়া গাছ লক্ষ করা গেছে। গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহে ফুল ফুটে কৃষ্ণচূড়া মুগ্ধতা ছড়িয়ে পথচারীদের থমকে তাকাতে বাধ্য করছে। 

কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদ উচ্চতায় সাধারণত ১২ থেকে ১৫ মিটার হলেও শাখা-পল্লবে এটির ব্যাপ্তি বেশ প্রশ্বস্ত। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত। মুকুল ধরার কিছু দিনের মধ্যে পুরো গাছ ফুলে ফুলে ভরে যায়। কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলো বড় ৭ থেকে ৮টি পাপড়িযুক্ত গাঢ় লাল। ফুলের ভেতরের অংশ হালকা হলুদ ও রক্তিম হয়ে থাকে।

পাপড়িগুলো প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হতে পারে। কৃষ্ণচূড়া জটিল পত্র বিশিষ্ট এবং উজ্জ্বল সবুজ। প্রতিটি পাতা ৩০-৫০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ২০-৪০ টি উপপত্র বিশিষ্ট। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ বাংলাদেশে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত।

কবিগুরু রবি ঠাকুরের ভাষায় ‘গন্ধে উদাস হওয়ার মতো উড়ে তোমার উত্তরী কর্ণে তোমার কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরি’ আজ টিকে আছে নড়বড়ে অস্তিত্ব নিয়ে। তবে ক্রমে ক্রমে বাড়ছে কৃষ্ণচূড়া গাছের কদর। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও হাসপাতালে শোভাবর্ধনে কৃষ্ণচূড়া গাছ অতুলনীয়। তাই সৌন্দর্য্যর পাশাপাশি মানুষ ও প্রকৃতির স্বার্থেই বেশি করে কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানোর আহ্বান জানান প্রকৃতিপ্রেমীরা।

বিজয়নগর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রতিবছরই কৃষ্ণচূড়ার এমন সৌন্দর্য দেখা যায়। বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের   আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মো. আশরাফুল ইসলাম স্বপন দৈনিক যায়যায়দিন প্রতিনিধিকে বলেন,কৃষ্ণচূড়া একটি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া।এ গাছ পত্রপল্লব এবং আগুনলাল ফুলের জন্য বিখ্যাত। সৌন্দর্যবর্ধক গুণ ছাড়াও এ গাছ ছায়া দিতে বিশেষ উপযুক্ত।শোভা বর্ধনকারী এ বৃক্ষগুলো দেশের গ্রামীণ জনপদের পাশাপাশি শহরের মানুষের কাছেও সমান গুরুত্ব বহন করে। প্রতিদিনই কৃষ্ণচুড়া গাছের কাছে ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ। ছবি তুলে নিয়ে যান। এমন সৌন্দর্য দেখতে কেউ ভুল করেন না।এই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাসপাতালের ভর্তির রোগীরা ও তাদের সাথে লোকজনরা ওয়ার্ড থেকে  প্রকৃতিপ্রেমীরা এখানে ছুটে আসেন।

শুধু সৌন্দর্যই নয়, কৃষ্ণচূড়া গাছের ছায়া গ্রীষ্মে স্বস্তিও এনে দেয়। ঝরে পড়া লাল ফুলে পথঘাট ঢেকে গিয়ে সৃষ্টি হয় মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।  
স্থানীয় অজিত রায় বলেন , কৃষ্ণচূড়া শুধু উপজেলায়  সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, মানুষের মনে প্রশান্তিও ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে গাছ লাগানো ও সংরক্ষণে সবাইকে আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT