ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিপাকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

author
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৩৫
ad003
গত কয়েকদিনের তীব্র কাঁঠফাটা গরম আর উষ্ণ আবহাওয়ার মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক পশলা ভারী বর্ষণ সহ কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। এতে জেলার কসবা -আখাউড়া এবং নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গাছ পড়ে ঘরবাড়ি রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছ পরে বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা আগরতলা সড়কে যান চলাচল। শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট মুহুর্তে তলিয়ে যায়। এতে পরীক্ষা কেন্দ্র যাওয়ার পথে বিপাকে পড়েন এস.এস.সি পরীক্ষার্থীরা। 

সকাল ৭টা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উত্তর পশ্চিমের আকাশ কালো মেঘের ঘনঘটায় পুরো আকাশ  জুড়ে অন্ধকার নেমে আসে। এরপর শুরু হয় বজ্রপাত সহ কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা, আখাউড়া, নবীনগর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কাঁচা ঘরবাড়ি ধ্বসে পরে, যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। 

কালবৈশাখীর তীব্র ঝড়ের কারণে আখাউড়া উপজেলার নারায়ণপুরে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পরে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। অপরদিকে কসবা উপজেলার মঈনপুর বাজারে বিদ্যুতের খুঁটি গাছপালা, দোকানঘর ভেঙ্গে গেছে। চরনাল গ্রামে মাদরাসার টিনের ঘর ভেঙ্গে  পড়ে।

কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বড় একটি গাছ হাসপাতাল মসজিদের উপর ভেঙ্গে পড়ে। জেঠুয়ামোড় এলাকায় গাছপালা বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।  তিনলাখ পীর বাজার এলাকায় একটি মোবাইল টাওয়ার ভেঙ্গে পড়ে। গুরুহিত মোল্লাবাড়ি সহ আশপাশ এলাকায় ঘর-বাড়ি এবং গাছপালা বিধ্বস্ত হয়।

এদিকে  ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, বটতলী, ভাদুঘর এলাকায় গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে। আশুগঞ্জ উপজেলার  তালশহরে রেল লাইনে গাছ পরে ২০ মিনিট ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। নবীনগর  উপজেলার, বিটঘর, কাইতলা, শিবপুর সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গাছপালা  ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতি  হয়েছে। 

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের চলাচলরত যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। 

এদিকে সকাল ৯ টার দিকে শুরু হয় তীব্র ঝড় বৃষ্টিসহ ভারী বর্ষণ। এ অবস্থায় বিপাকে পড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। ভারী বর্ষনের কারণে পরীক্ষার্থীরা কেউ ভ্যানে করে, রিক্সা করে, পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌছাতে গিয়ে কিছুটা বিলম্ব হয়। অনেক পরীক্ষার্থী  বৃষ্টিতে ভিজে নাকাল হয়ে বিপাকে পড়ে। 

শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্র পরীক্ষার্থীর অভিভাবক ফারহানা ববি ও মোঃ ছগির আহম্মেদ জানান, তীব্র কালবৈশাখী ঝড় আর বৃষ্টির কারণে পরীক্ষার্থীরা ভোগান্তি নিয়ে বিলম্বে কেন্দ্রে এসে পৌঁছায়। তারা এ ব্যাপারে পরীক্ষার সময় বাড়িয়ে দেয়ার জন্য জেলা  প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি জানান। 

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদ জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব  কেন্দ্রে বিলম্বে পরীক্ষার্থীরা এসেছে, সেসব পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবদেরকে বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া যে সব স্থানে ঘরবাড়ি গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেসব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে তালিকা প্রেরণ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান এই মুহুর্তে আমার কাছে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত কোন তথ্য নেই। 

অপরদিকে ভারী বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন পাড়া- মহল্লায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা । এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পৌরবাসী। 
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT