বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা আর আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্রামের তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গঙ্গাস্নান।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারো বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বাদশী তিথিতে এই গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। গঙ্গাস্নানকে কেন্দ্র করে ভাদুঘর এলাকায় তিতাস নদীর পাড়ে বসে লোকজ মেলা। মেলায় অংশ নেয় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বয়সী মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, সকালে তিতাস নদীর ভাদুঘর এলাকায় সকাল থেকেই নদীর তীরে এসে জড়ো হয় হাজারো ভক্ত পুন্যার্থী। তারা তিথি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গঙ্গাস্নানে অংশ নেন। নদীর পবিত্র জলে গঙ্গাস্নানের মধ্য দিয়ে ভক্তরা নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি দেশ জাতীর কল্যান কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করে।
গঙ্গাস্নানে অংশ নেয়া ভক্ত পলি রানী দাস জানান, নদীতে গঙ্গাস্নান করেছি, নিজের জানা অজানা পাপ মোচনের জন্য। গঙ্গাস্নান শেষে গঙ্গা মায়ের কাছে নিজের পরিবার ও দেশের মানুষের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেছি।
সুনিল সাহা নামে অপর ভক্ত জানান, গঙ্গার পবিত্র জলে স্নান করার পর রোগশোক, পাপ মোচন হয়। এই বিশ্বাস থেকে গঙ্গাস্নানে অংশ নিয়েছি। ভগবান যেন সবার মঙ্গল করেন।
মেলায় আসা দেবোত্তম দাস বলেন, গঙ্গাস্নান করেছি। মেলা থেকে মন্ডা মিঠাই, তিল্লাই, খই, চিড়া কিনেছি। বাচ্চাদের জন্য খেলনা সামগ্রী ক্রয় করেছি। বেশ ভাল লেগেছে।
এদিকে ঐতিহ্যবাহী এই গঙ্গাস্নানকে কেন্দ্র করে তিতাস নদীর তীরে বসে লৌকজ মেলা। মেলায় নাগরদৌলা, হরেক রকম বাহারী খাবার মুড়ি-চিড়া, মাঠা, তিল্লাই, বাতাসা, সহ মাঠির তৈরী খেলনার দোকানের পসরা সাজিয়ে বসে দোকানীরা।
তবে সকালে বৈরী আবহাওয়া ও কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে পসরা সাজিয়ে বসা দোকানীরা মুহুর্তেই দোকানপাট বন্ধ করে দেন। পরে সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় ঝড়। এতে মেলা প্রাঙ্গনে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।
খাবারের দোকানের পসরা নিয়ে আসা জাকির হোসেন জানান, সকাল থেকে বেচাকেনা বেশ ভালই হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই আকাশের রঙ বদলে যায়। চারদিক অন্ধকার করে শুরু হয় দমকা হাওয়া সহ ঝড়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্রেতা সমাগম কমে যায়। তবে বিকেল থেকে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশ ভাল। বেঁচাকেনাও হচ্ছে বেশ ভাল। তাই কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।
মাটির খেলনা সামগ্রী নিয়ে আসা রবীন্দ্র মোহন পাল বলেন, প্রতিবছর ভাদুঘরের মেলায় আসি। অপেক্ষায় থাকি কবে আসবে এই মেলা। এবারো মেলায় মাটির সামগ্রী নিয়ে এসেছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি তেমন একটা ভাল না। তবে বিকেলের পর থেকে ক্রেতা সমাগম বাড়তে থাকে।
খাবার সামগ্রী বিক্রেতা নূর হোসেন বলেন, বেচাকেনা বেশ হচ্ছে। নারু, তিল্লাই, বাতাসা, জাম মিষ্টি, মন্ডা মিঠাই, গুড়ের জিলাপি বিক্রি করছি। ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে বেশ।
দিন ব্যাপী এই মেলায় কমপক্ষে ৩ শতাধিক দোকানী ছোট বড় বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে। এর মধ্যে আজ ও কাল এই মেলা থেকে কমপক্ষে ২ কোটি টাকারো বেশি বাণিজ্যের আশাবাদ স্থানীয়দের।