নোয়াখালীর আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা হত্যা মামলায় তার সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনিকে(৩০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আব্দুর রহিম রনি এ মামলার একমাত্র আসামি। তার উপস্থিতিতেই বিচারক এই রায় দেন। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি (পিপি) মো. সেলিম শাহী বলেন, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাতে নোয়াখালী পৌরসভার একটি বাসা থেকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতার গলা ও হাত, পায়ের রগ কাটা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার মা রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।
ঘটনার দিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে প্রাইভেট শেষে ১২টার দিকে বাসায় ফিরে আসে স্কুলছাত্রী। পরে বাসায় সে একাই ছিল। সন্ধ্যায় তার মা ফিরে ঘরের মূল দরজায় তালা দেখতে পান।
তালা খুলে ভেতরে ঢুকে সামনের কক্ষের আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। অন্য রুমের বিছানায় মেয়ের অর্ধনগ্ন, গলা ও দুই হাতের রগ কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
এ ঘটনার পর পুলিশের একাধিক দল পৃথক অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্রীর সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন রনি।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ।
আলোচিত এ হত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
চাঞ্চল্যকর এ মামলায় বিচার কাজ চলাকালে বাদী পক্ষের ৪১ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এছাড়া আসামি পক্ষের পাঁচজন সাফাই সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন বিচারক।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মোল্লা মোহাম্মদ হাবিবুর রাছুল মামুন বলেন, জেলা শহরে দিন দুপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীকে হত্যার এ ঘটনায় আদালত যে রায় দিয়েছেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
মামলার বাদী ও স্কুল শিক্ষার্থীর মা রাজিয়া সুলতানা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তার মেয়েকে হত্যায় এ মৃত্যুদণ্ডের রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। তিনি বলেন, দেশে আর কোন নারী, শিশু যেন আমার আদিতার মতো এমন নিষ্ঠুরতার শিকার না হয়। দেশটা যেন নারী-শিশুসহ সবার জন্য নিরাপদ হয় রাষ্ট্রের কাছে এটাই আমার প্রত্যাশা।
রায় ঘোষণার পর লায়লা পারভীন নামে নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা একজন বলেন, নোয়াখালী শহরে দিনদুপুরে এমন নির্মম নিষ্ঠুর ঘটনা পুরো জেলাবাসী ও দেশবাসী হতবাক করে দিয়েছিল। বিবেকাবান মানুষ এ ঘন্টার বিচার দাবিতে রাস্তায় এসে এসেছিল। এ রায়ের মধ্য দিয়ে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আমরা দ্রুত রায় বাস্তবায়ন দেখতে চাই।