ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ধাপে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের প্রধান স্বপন কুমার রায়কে-(৫৮) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।
গত শুক্রবার ভোর ৫টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্যাস ফিল্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত স্বপন কুমার রায় নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার আরাজী গ্রামের সুধীর চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার দিয়াবাড়ি বাজারে ‘উৎসব ফার্মেসী’ নামে একটি ফার্মেসীর মালিক।
পিবিআইয়ের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও শুক্রবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলমের আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামী স্বপন কুমার রায় ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআই, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অফিসের এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামাল বাদী হয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২২, তারিখ-১৫/০৩/২০২৬খ্রিঃ)।
মামলা দায়েরের পর পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামালকে প্রতারক চক্র অস্ট্রেলিয়ার কথিত মোবাইল নম্বর (+৬১৪৮৫৮৪১৯৮৩ এবং +৬১৪৮৫৯৮৬১৯৫) থেকে যোগাযোগ করে উচ্চ বেতনে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর মিথ্যা প্রলোভন দেখায়।
গত ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে বাদী ও বাদীর আত্মীয়-স্বজনের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বর থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
পরে আসামীরা বাদীর সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
তিনি বলেন, তদন্তকালে নিবিড় তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও বিকাশ লেনদেনের স্টেটমেন্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্বপন কুমার রায় প্রতারক চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। তিনি তার পরিচিত স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কলেজ শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম আতিকীসহ আরো কয়েকজনের নামে কৌশলে তিনটি বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং সিমগুলো নিজের হেফাজতে রেখে প্রতারণার অর্থ পেমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করেন। প্রাথমিকভাবে তিনটি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে সর্বমোট ২৯,৩২,১৪১/- (ঊনত্রিশ লাখ বত্রিশ হাজার একশত একচল্লিশ) টাকা পেমেন্ট করার প্রমান পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে আসামি স্বপন কুমার রায় ও তার সহযোগী পলাতক আসামি ডিএসও মোঃ জাবেদুল ইসলাম নগদায়ন করে আত্মসাৎ করে।
ঘটনার সাথে জড়িত চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে পিবিআই-এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত আছে।
এ ব্যাপারে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও বিশেষ কৌশলে আসামি স্বপন কুমার রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত স্বপন কুমার রায় ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলমের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তএবং চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে পিবিআই-এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।