বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১০) ফুসলিয়ে নিয়ে ৩৮ বছর বয়সী এক বিবাহিত যুবকের সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে এবং ১২ দিন আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৬ মে) রাতে স্বজনরা ওই শিশুকে উদ্ধার করার পর এ ঘটনা জানাজানি হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা, খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাগুরা গ্রামের এক দিনমজুর জানান, গত ২৬ এপ্রিল রাতে তার মেয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পরদিন ২৭ এপ্রিল গৌরনদী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। দীর্ঘ তল্লাশির পর বুধবার তারা জানতে পারেন, শিশুটিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী প্রতারণা করে একই বাড়ির প্রতিবেশী মেঘা বাড়ৈ শিশুটিকে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে মুকসুদপুরস্থ তার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে মেঘা ও তার স্বামী রাজু ঢালী মিলে ১০ বছরের ওই শিশুর সঙ্গে ৩৮ বছর বয়সী ভগরত ঢালী নামক এক বিবাহিত ব্যক্তির জোরপূর্বক বিয়ে দেয়।
মানবিক বিপর্যয়: নির্যাতিতা শিশু জানায়, তার অমতে ভগরত ঢালী জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। সে বাড়ি ফেরার জন্য কান্নাকাটি করলে তাকে জানানো হয় যে, ২ লাখ টাকার বিনিময়ে মেঘা ও রাজুর কাছ থেকে তাকে 'কিনে' নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ১২ দিন আটকে রেখে শিশুটির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। বর্তমানে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ।
অভিযুক্ত মেঘা বাড়ৈ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তারা বিয়ে দেননি এবং শিশুটি নাকি 'নিজের ইচ্ছায়' বিয়ে করেছে। তবে ১০ বছরের একটি শিশুর আইনত বিয়ের কোনো অধিকার বা সুযোগ নেই বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগীর পরিবার বর্তমানে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহল।
বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দণ্ডনীয় অপরাধ এবং ১০ বছরের শিশুর ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টতই 'ধর্ষণ' ও 'শিশু পাচার' হিসেবে গণ্য। আইনানুসারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হওয়া জরুরি।