লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বামনী ইউপির পূর্ব সাগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর ধরে দুই পক্ষে বিরোধ চলছে।।
দাতা পক্ষের উত্তরসুরীরা বলছেন তাদের ১২ শতাংশ জমি ছেড়ে দিয়ে ভবন নির্মাণ কাজ করতে বাধা নেই। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন ১২ শতাংশ জমি বাঁশের বেড়া দিয়ে বাধাগ্রস্থ করায় নতুন ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছেনা। বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
এর প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার দুপুরে (১২ মে) বিদ্যালয় মাঠে আলোচনাসভা ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও গ্রামবাসী।।
এসময় দাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিব উল্যাহ, কলিম উল্লাহ, রহমত উল্লাহ, সমাজ সেবক বেল্লাল হোসেন, ফজর আলী, আবদুল মালেক, আনোয়ার গাজি, মাহবুবুর রহমান জনি, বাচ্চু হাওলাদার, এমরান হোসেন, জাবেদ হোসেন, সাখায়েত উল্লাহসহ অভিভাবক ও শতাধিক গ্রামবাসি মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেছেন।।
জানা যায়, বিদ্যালয়ের জন্য মোট ৫০ শতাংশ জমি থাকলেও রেকর্ডভুক্ত রয়েছে ৪২ শতাংশ। বর্তমানে বিদ্যালয়ের দখলে রয়েছে প্রায় ১৭-শতাংশ জমি। বিদ্যালয়ের জমির দাতা সদস্য ছিলেন চারজন—স্থানীয় এমদাদ উল্লাহ, আমিন উল্লাহ, মোঃ অজিউল্লাহ ও হাজী অলিউল্লাহ।
অভিযোগ রয়েছে, দাতা হাজী অলিউল্লাহর ১০ জন ওয়ারিশের মধ্যে দুই ভাই আব্দুল খালেক ও মালেক তাদের দাবি করা ১২ শতাংশ অংশে বাঁশের বেড়া দেয়। এতে ওই জমি দখলে রাখায় প্রায় তিন বছর আগে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বছরেও বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেলেও এই জটিলতায় আবারও কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষকরা স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করতে পারছেন না শতাধিক শিক্ষার্থীদের। নিরাপত্তাহীনতা ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে শিক্ষার্থী সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও গ্রামবাসী।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ভূমির দলিল, খতিয়ান ও সরকারি সার্ভেয়ার কর্তৃক পরিমাপ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করলেও তা মানছেন না দাতা সদস্যের দুই ওয়ারিশ। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসী আলোচনা সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গ্রামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলে আলোকিতসহ অনেক উপকার হয়। বাধ্যতামূলক ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার জন্য শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অপরিহার্য। তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে ব্যাবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, “এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমরা আমাদের জায়গায় বাঁশেরবেড়া দিয়েছি। আমরাও চাই এখানে স্কুল হোক। তাই বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছি।”
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঈনুল ইসলাম বলেন, স্কুল ও দাতা সদস্যদের উত্তরসুরীদের মধ্য ১২ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ আছে। বিষয়টি উভয়পক্ষকে ডেকে স্বল্প সময়ে প্রয়োজনী ব্যাবস্থা নেয়া হবে।