ঢাকা | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২২ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর আগমন: উৎসবের নগরীতে পরিণত চাঁদপুর

author
চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১২ মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭
ad003
দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান- এর চাঁদপুর সফরকে ঘিরে গোটা জেলায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আগামী ১৬ মে একদিনের সফরে তিনি খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এ সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শহর থেকে গ্রাম- সবখানেই টাঙানো হয়েছে শুভেচ্ছা সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। দলীয় নেতা-কর্মীরা অব্যাহত রেখেছেন আনন্দ মিছিল, গণসংযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রম। দীর্ঘদিন পর দলীয় চেয়ারম্যানকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেন নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন।

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হচ্ছে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন। 

জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকার ‘খোদ খাল’ এবং সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। 

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেহাট এলাকার বাসিন্দা মো: ফারুক বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত এসব খাল পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন, স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। 

এদিকে সফরের আরেকটি বড় আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিকে। একযোগে দেশের ২২টি জেলায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। সাধারণ মানুষের মাঝে এ কর্মসূচি নিয়েও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

চাঁদপুর শহরের বাসিন্দা ও ক্লিন চাঁদপুর এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যাড. নূরুল আমিন খান আকাশ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে শুধু রাজনৈতিক আবহই নয়, জেলার উন্নয়ন প্রত্যাশাও নতুন করে সামনে এসেছে। চাঁদপুরবাসী জেলার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে ইপিজেড স্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

সশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে চাঁদপুরকে দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব।

তিনি বলেন, খালর খননের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নদীনির্ভর জনপদের জীবনযাত্রায়ও নতুন গতি আসবে।

চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি জানান, চাঁদপুরবাসীর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চাঁদপুরের উন্নয়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা। 

জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, খাল পুনঃখনন ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির পাশাপাশি চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায়ও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমনকে ঘিরে এখন পুরো চাঁদপুরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসব, প্রত্যাশা ও উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন।

দীর্ঘ দুই যুগ পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়- বরং এটি চাঁদপুরবাসীর প্রত্যাশা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT