ঢাকা | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়ের মৃত্যু

author
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৬ সকাল ৫:৪০
ad003
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক তারিন আক্তার এবং তার মাত্র ২২ মাস বয়সী শিশুকন্যা ইয়াশা।

শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভাটিয়ারী বিএমএ গেট এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মা ও শিশুর মরদেহ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত শিশুর বাবা জাকারিয়া হোসেন নয়ন। তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায়।

জানা যায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে ভাটিয়ারী পর্যটন এলাকায় ঘুরতে বের হয়েছিলেন তারিন আক্তার। দিনভর আনন্দঘন সময় কাটিয়ে তারা চট্টগ্রাম শহরের দিকে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পথে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে যায় ২২ মাস বয়সী শিশু ইয়াশা। সন্তানের এমন বিপদ দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি মা। নিজের জীবনের ঝুঁকির কথা ভুলে দ্রুত ছুটে যান আদরের সন্তানকে বাঁচাতে।

ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি গাড়ি মা ও শিশুকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলের বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখে পথচারী ও স্থানীয়রা হতবাক হয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে মা ও শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তারিন আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যায় ছোট্ট ইয়াশাও।

বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হক বলেন, “ভাটিয়ারী বিএমএ গেট এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মা ও শিশুকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এ দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তা তারিন আক্তারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সীতাকুণ্ড উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম। এক শোকবার্তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি বলেন, “তিনি অত্যন্ত ভদ্র, দায়িত্বশীল ও কর্মনিষ্ঠ একজন কর্মী ছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন আন্তরিক ও সবার প্রিয় মুখ। তার অকালমৃত্যু প্রশাসনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT