ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নেত্রকোণায় সরকারি ছাগল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

ওজন বাড়াতে ডিজিটাল মেশিনে লোহার রিং, ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭
ad003
নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দরিদ্র পরিবারের জন্য সরকারি ছাগল বিতরণ কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও ওজনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ছাগলের প্রকৃত ওজন আড়াল করতে ডিজিটাল ওজন মেশিনের ভেতরে লোহার রিং বসিয়ে বাড়তি ওজন দেখানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে উপকারভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ছাগল বিতরণ কার্যক্রমে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি ছাগলের ন্যূনতম ওজন আট কেজি হওয়ার কথা থাকলেও অনেক ছাগলের ওজন ছিল মাত্র সাড়ে তিন থেকে ছয় কেজির মধ্যে। পরে কয়েকটি ছাগল পুনরায় ওজন করলে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে।

উপকারভোগীরা জানান, প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও পরে ছাগলের আকার ও ওজন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে বাইরে এনে পুনরায় ওজন করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ ছাগলের ওজন নির্ধারিত মানের চেয়ে অনেক কম। অভিযোগ রয়েছে, ডিজিটাল মেশিনের ভেতরে চারটি লোহার রিং ঢুকিয়ে প্রায় ১ কেজি ৭০০ গ্রাম অতিরিক্ত ওজন দেখানো হচ্ছিল।

ভুক্তভোগী অলিভিয়া নংমিন, পূর্ণা রিছিল, রবি হাজং ও জয় পদ্ম হাংজ অভিযোগ করে বলেন, “একটি ছাগলের ওজন কমপক্ষে আট কেজি হওয়ার কথা। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে দুটি ছাগল মিলিয়েও অনেক সময় সেই ওজন পূরণ হচ্ছে না।”

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ উপকারভোগী ও স্থানীয় জনতা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির দাবিতে অফিসের একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলেও জানা গেছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের স্টাফ রাহাত সাংবাদিকদের বলেন, “ডিজিটাল মেশিনটি অফিসের। আজই প্রথম এটি ব্যবহার করা হয়েছে। ভেতরে রিং থাকার বিষয়টি আগে বুঝতে পারিনি। সেটআপের সময় ভুল হয়ে থাকতে পারে।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কানিকা সরকার বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ছাগলের ওজন কমপক্ষে আট কেজি হওয়ার কথা। যেসব ছাগলের ওজনে সমস্যা পাওয়া গেছে, সেগুলো পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

ঠিকাদার পক্ষের প্রতিনিধি সাগর বেপারি দাবি করেন, “আমি ৩০টি ছাগল এনেছি। এর মধ্যে কয়েকটি ছোট হতে পারে।”

অন্যদিকে টাঙ্গাইলের ঠিকাদার রাসেলের কর্মচারী পরিচয়ে হোসেন আলী বলেন, “আমাকে দিয়ে ছাগলগুলো পাঠানো হয়েছে। কিছু ছাগল ছোট থাকতে পারে।”

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আদিবাসী নেতা বদুয়েল কুবি। তিনি বলেন, “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের নামে যদি অনিয়ম করা হয়, তাহলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ইসলাম বলেন, “অভিযোগ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT