ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শার্শায় খাল পুনঃখননে দৃশ্যমান অগ্রগতি কৃষি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বদলে যাচ্ছে জনপদ

author
শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২৬ সকাল ৭:৩১
ad003
যশোরের শার্শা উপজেলায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, কৃষি সংকট ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে ব্যাপক পরিসরে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার। 

বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খালে খনন কাজ চলমান ও সমাপ্ত হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, “Climate Smart Agriculture and Water Management (BWDB Part)” প্রকল্পের আওতায় শার্শা উপজেলার আমড়াখালী খালের খনন কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। 

একই প্রকল্পের আওতায় কানাইখালী খালের ২ দশমিক ৭৫০ কিলোমিটার অংশের মধ্যে ০ দশমিক ৩০০ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে, যার অগ্রগতি ১০ দশমিক ৯১ শতাংশ। বর্তমানে সেখানে কাজ চলমান রয়েছে।

এছাড়া “পরিচালন ব্যয় খাত (২০২৫-২৬ অর্থবছর)” এর আওতায় সুবর্ণখালী খালের ২ দশমিক ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে ২ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খনন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অন্যদিকে, শার্শার গুরুত্বপূর্ণ উলাশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ০ দশমিক ১৫০ কিলোমিটার খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

 স্থানীয়রা মনে করছেন, উলাশী খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যাবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে।
এদিকে “Improvement of Ponds, Canals Across the Country Project (IPCP)” প্রকল্পের আওতায় ভাওতার খালের ১ দশমিক ৮৮০ কিলোমিটার এবং বসতপুর খালের প্রায় ১ কিলোমিটার খনন কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। 

একইসাথে ভেটকিমারী খালের ৩ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এসব কাজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এছাড়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্দোলণোতা মোশারফের বাড়ি হতে খামারপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৫৫০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। 

পাশাপাশি বহিলাপোতা ব্রিজ হতে মান্দারতলা ব্রিজ হয়ে শ্রীকোণা মেইন রাস্তা পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্যও প্রাক্কলন প্রস্তুতপূর্বক সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ জানান, বছরের পর বছর খাল ভরাট ও নাব্যতা সংকটের কারণে কৃষি জমিতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এতে একদিকে যেমন ফসলের ক্ষতি হচ্ছিল, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ বাড়ছিল। বর্তমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের ফলে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে ওয়াহিদ বলেন, “সরকারের নির্দেশনায় শার্শা উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। এসব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে। আমরা কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করছি। পর্যায়ক্রমে আরও খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “খালগুলো সচল হলে শুধু পানি প্রবাহই স্বাভাবিক হবে না, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমে আসবে এবং কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

সরকারের এ উদ্যোগকে শার্শাবাসীর জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, পরিকল্পিতভাবে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে শার্শা উপজেলার জলাবদ্ধতা ও কৃষি সংকট অনেকাংশে দূর হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT