ঢাকা | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“দলপায় হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, অনুমোদন ছাড়াই অর্থ আদায়ের দাবি

—ফেসবুকে তোলপাড়”

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪
ad003
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ৩নং দলপা ইউনিয়নে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে করা একটি পোস্ট ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।

গত ১৬ মে কেন্দুয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল খায়ের তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি দলপা ইউনিয়নে “ট্যাক্সের নামে মহা দুর্নীতি” হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন।

পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়াই বাড়ি বাড়ি গিয়ে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে। সেখানে ইউনিয়নের ভোটার ও বাড়ির আনুমানিক সংখ্যা উল্লেখ করে সম্ভাব্য বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের হিসাব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি আদায়কৃত অর্থ কোথায় যাচ্ছে এবং উপজেলা নির্বাচন অফিস কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নও তোলা হয় পোস্টটিতে। পোস্টের সঙ্গে কয়েকটি ট্যাক্স রসিদের ছবিও সংযুক্ত করা হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সচিব গৌতম তরফদার বলেন, “হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের উদ্যোগটি কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ট্যাক্স আদায় পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আপাতত কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।”

অন্যদিকে ৩নং দলপা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক আবুল কাশেম বলেন, “হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আগ্রহ দেখালেও আমি নিয়মকানুন যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে সম্মতি দিইনি। কিন্তু আমার অনুমতি ছাড়াই সচিব ও কয়েকজন মেম্বার মাঠপর্যায়ে ট্যাক্স আদায় শুরু করেন। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। সরকারি বিধি ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া এখানে কোনো ট্যাক্স আদায় হবে না। নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা দায়িত্বে ফিরলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ নিয়মতান্ত্রিকভাবে ট্যাক্স আদায়ের পক্ষে মত দিলেও, অনেকেই স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT