ঢাকা | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষকের মাঝে যেন নেমে এসেছে অঘোষিত অর্থনৈতিক সংকট

author
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২০ মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯
ad003
ভুট্টা ও বোরো ধানের দাম উৎপাদন খরচের নিচে নেমে যাওয়ায় নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলাসহ জেলার অন্যান্য উপজেলার কৃষকের ঘরে যেন নেমে এসেছে অঘোষিত অর্থনৈতিক সংকট। তাদের চোখে এখন শুধুই হতাশা। এবারে টানা বৃষ্টি, কাল-বৈশাখী ঝড় আর সূর্যের অনুপস্থিতিতে মাঠে ফলন ভালো হলেও বাজারে নেই স্বস্তি।

উত্তরাঞ্চলের কৃষকের যে সোনালী স্বপ্ন ‘ভুট্টা’ হয়ে উঠেছিল সেই ভুট্টা শুকাতে না পারায় কৃষের কাছে এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুট্টা এখন পাইকার ও মহাজনরা কিনতে চাইছেন না। সৈয়দপুরসহ নীলফামারী জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে ভুট্টা বাড়িতে তোলার জন্য আবার, কেউ-কেউ এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও ঘরে তুলছেন ভুট্টা, কিন্তু বিক্রির বাজার নেই। রোদের দেখা না মেলায় ভুট্টার আর্দ্রতা কমছে না। ফলে গুদামে রাখা ভুট্টা দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচা বা আর্দ্র ভুট্টা কিনে সংরক্ষণ করলে বড় ধরনের লোকসানের ঝুঁকি থাকে। এ কারণেই তারা এখন অনেকটা দেখে শুনে ক্রয় করছেন।

ডোমারের ভোগড়াবুড়ি ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়ার কৃষক আশিকুর সরকার জানান, মৌসুমের শুরুতে যে ভুট্টার দাম ছিল প্রতি মণ ৯৫০ টাকা, তা’ নেমে এসেছে ৬৫০-৭০০ টাকায়। কিন্তু সেই দামেও মিলছে না ক্রেতা। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বাড়ির উঠানে ত্রিপল টাঙিয়ে ভুট্টা শুকানোর চেষ্টা করছেন। আরেক কৃষক তহিদুল ইসলাম বলেন, সার ও বীজের টাকা বাকি, ভুট্টা বিক্রি করে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আকাশের যে অবস্থা, কোনো পাইকার এ ভুট্টা কিনতে চাচ্ছেন না। যদিও ২-১ জন আসে এমন দাম বলে যে খরচের টাকায় উঠবে না। এবার আকাশ হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়ায় আমাদের করুণ দশা। কেউ-কেউ আবার ঋণের টাকা শোধ করতে না পেরে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

অপরদিকে বোরো ধানের বাজার পরিস্থিতিও কৃষকদের জন্য আরও হতাশাজনক। মাঠে ফলন ভালো হলেও ধানের দাম পড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। সরকার নির্ধারিত মূল্য কৃষকরা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক কৃষকের অভিযোগ, বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মধ্যস্বত্বভোগী ও বড় ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পরও ধানের দাম না বাড়ায় সাধারণ কৃষকরা এখন হাঁটছে লোকসানের পথে। সৈয়দপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক কামাল বলেন, সংসারের খরচ চালাতে বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে, সামনে কোরবানি। আরও পরিবারের খরচ। সবতো এই ধানের ওপরেই। আমাদের তো আর কোনো রাস্তা নেই। লাভ হোক আর লস হোক, এটা দেখবার সময় পাই কই ? ধান কাটার কামলার টাকা দেওয়া লাগবে, ধান বিক্রি না কররে সেই টাকা কোথা থেকে দেই?

এদিকে সামনে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে অর্ধেক দামে ভুট্টা ও বোরো ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে অনেকে। অন্যদিকে কুরবানীর ঈদে অনেক কৃষকের ভাগ্য এখন অনিশ্চিত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর রহমান সংবাদকর্মীদের জানান, সরকার নির্ধারিত দামে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হলে বাজারদর স্থিতিশীল হবে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৮১ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে এবং ৩১ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষাবাদ হয়েছে। পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না পেলে ভুট্টার সঠিক আর্দ্রতা পাওয়া যায়না। এ কারণেই ভুট্টা ক্রেতারা জোরেশোরে কেনাকাটা শুরু করেনি। এদিকে কৃষকদের সহায়তায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৭৮টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন কাজ করছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT