ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুমেক হাসপাতালে আগুন: স্থানান্তরের সময় আইসিইউ রোগীর মৃত্যু

author
খুলনা ব‌্যু‌রো

প্রকাশিত : ২০ মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩২
ad003
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের এক নম্বর আইসিইউতে থাকা ১৫ জন রোগীকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এসময় একজন রোগীর মৃত্যু হয়।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরেকজন রোগী আগুন লাগার আগে ভোর ৫টার দিকে মারা গেছে। তবে তার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

অপর একটি সুত্রে জানাগেছে, খুলনা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে আজ বুধবার সকালে ইমারজেন্সি ওটি তে আগুন লেগেছে। আগুনের আতঙ্কে তাড়াহুড়া করে বেরিয়ে আসতে অক্সিজেন এর অভাবে নাসরিন নাহার নামে একজন যুবতীর মৃত্যু হয়েছে। 

 মৃত যুবতী খুলনার কয়রা এলাকার নেছার আলির কন্যা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জন্মগত ডায়াবেটিসের কারনে গত মঙ্গলবার চিকিৎসা নেয়ার জন্য আসেন। আজ বুধবার সকালে আগুনের আতঙ্কে তারাহুরা করে নামার সময় মাক্স খুলে গেলে অক্সিজেনের অভাবে এক রোগী মারা যান বলে সুত্র জানায়। 

বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খুমেক হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পুরাতন আইসিইউ ইউনিটের পাশের একটি স্টোররুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ শুরু করে এবং প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

হাসপাতালেের একাধিক সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের এক নম্বর আইসিইউতে থাকা ১৫ জন রোগীকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এসময় একজন রোগীর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে আগুন থেকে বাঁচতে গিয়ে দুইজন নার্সসহ পাঁচজন আহত হন। আহতরা হলেন, হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. দিলীপ কুমার জানান, পুরোনো আইসিইউ ভবনের পাশের একটি কক্ষে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। সেখানে পুরোনো কাপড় ও কিছু সরঞ্জাম রাখা ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরোনো এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে দেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, আইসিইউতে থাকা রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন রোগী আগুন লাগার আগেই মারা যান এবং আরেকজন রোগী স্থানান্তরের সময় মারা যায় ৷

খুমেক হাসপাতালে আগুন: স্থানান্তরের সময় আইসিইউ রোগীর মৃত্যু প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে নিচে নেমে আসেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, আইসিইউর রোগীদেরও দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়। হাসপাতালের সামনের সড়ক ও মাঠে রোগী-স্বজনরা জড়ো হন। অনেকে ভয়ে ও আতঙ্কে কান্নায় দিকবিদিক ছুটাছুটি করতে দেখা যায়।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ জানান, সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে বয়রা স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে একে একে আরও ইউনিট যোগ দেয়। মোট ১০টি ইউনিট খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

তিনি বলেন, চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার স্টোররুমে আগুন লাগে। প্রথমদিকে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল। সব গেটে তালা দেওয়া ছিল, সেগুলো ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে অনেক সময় লেগেছে। ব্যালকনি থেকে ৪ থেকে ৫ জনকে উদ্ধার করা হয়। প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে প্রায় দেড় ঘন্টা পর আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলা হয়। ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT