ডোনাল্ড ট্রাম্প, নেতানিয়াহুর পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাট কাঁপাতে প্রস্তুত ১৩শত কেজির কালো মানিক।
জেলার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের কান্দি গ্রামের শফিক-জাহেদা দম্পতি দেশীয় খাবার খাইয়ে (প্রাকৃতিক উপায়ে) ১৩শত কেজি ওজনের কালো মানিককে লালন-পালন করেছেন। বৃহৎ আকারের ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটিকে দেখতে প্রতিদিন আশপাশ এলাকার বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা শফিকের বাড়িতে ভীড় জমায়।
গরুর মালিক শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ও তার স্ত্রী জাহেদা বেগম দেশীয় খাবার খাইয়ে (খড়, ভূষি কাঁচা ঘাস) ২০২২ সাল থেকে গরুটি লালন পালন করছেন। অনেক কষ্ট করে গত চার বছর ধরে তারা গরুটিকে বড় করেছেন। গরুটির ওজন এখন ৩৫ মণ। কেজির হিসেবে তা ১ হাজার ৩১২ কেজি। এটি অষ্টেলিয়ার ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। এটিকে তারা সন্তানের মতো করে লালন পালন করেছেন। নাম দিয়েছেন কালো মানিক। তিনি গরুটির দাম চাচ্ছেন ১৮ লাখ টাকা। তবে ঢাকার এক ক্রেতা ১১ লাখ টাকা দাম বলেছেন। পরে আর যোগাযোগ করেনি। শফিকুল ইসলাম জানান, ভাল ক্রেতা পেলে প্রয়োজনে দাম কমাবেন।
এদিকে প্রতিদিন গরুটিকে দেখার ভলাকুট ইউনিয়ন ছাড়াও নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উৎসুক দর্শনার্থীরা শফিকের বাড়িতে ভীড় জমান। গরুটির আকার আকৃতি দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।
গরুটিকে দেখতে আসা ওমর আলী নামে এক যুবক বলেন, শফিকের বাড়িটি একে বারে ছোট। ঘরটিও বেশ ছোট, এই ঘরে এতো বড় গরুটিকে কিভাবে লালন পালন করলো শফিকের স্ত্রী জাহেদা বেগম। এটিই অবাক হওয়ার বিষয়।
তিনি জানান, গরুটির মালিকেরা সৎ ক্রেতা খুজ ছেন। আমরাও চাই গরুটির ক্রেতা যেন একজন সৎ ও ভালো মানুষ হয়।
দর্শনার্থী সফর মিয়া জানান, এ বছর নাসিরনগরে এতোবড় গরু কেউ বাড়িতে লালন পালন করেছেন বলে আমার জানা নেই। আমার ধারনা এটি শুধু নাসিরনগরই নয় এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মধ্যে গৃহপালিত সবচেয়ে বড় গুরু।
গরুটি সম্পর্কে ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রুবেল মিয়া জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প, নেতানিয়াহুর পর এবার নাসিরনগরের ভলাকুট গ্রামের কালো মানিক মাঠ কাপাবে। এটি জেলার সবচেয়ে বড় গরু বলে দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, গৃহপালিত এমন গরু যেন আরো বেশি করে বাড়ী ঘরে পালন করা হয়, সে ব্যাপারে প্রানীসম্পদ কার্য্যালয়ের সাথে কথা বলে উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানাবেন তিনি।
আগামী ২৪মে বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘর কোরবানির হাটে গরুটিকে বিক্রির জন্যে নিয়ে আসবেন শফিক।