ঢাকা | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চায়নার অর্থায়নে এলজিইডির ছয় বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব

author
মাকসুদুল আলম ভূঁইয়া

প্রকাশিত : ২০ মে, ২০২৬ বিকেল ৪:২২
ad003
দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নদী ব্যবস্থার সুরক্ষা এবং টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়না সরকারের আর্থিক সহায়তায় একাধিক বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ লক্ষ্যে গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, এনডিসি মহা-পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগ, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন এবং চায়নার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদের মধ্যে Wang Zhi ভাইস চেয়ারম্যান (ওভারসিজ বিজনেস ডিভিশন), Xinjian Fu চেয়ারম্যান, Su Yan ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও রাকিন করিম সিনিয়র এডভাইজার (মার্কেটিং) উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, দেশের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে চায়নার অর্থায়নে বেশ কয়েকটি উচ্চ প্রযুক্তি-নির্ভর সেতু ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আলোচনায় উঠে আসে, বাংলাদেশের অধিকাংশ নদী বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ভৌত প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি। অপরিকল্পিত বাঁধ, সেতু, স্লুইস গেট, নদী ভরাট, বালু উত্তোলন এবং অবকাঠামোগত চাপের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নদী-কেন্দ্রিক পরিবহন, কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় দীর্ঘ স্প্যান ও আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর সেতু নির্মাণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এলজিইডি জানিয়েছে, দেশের প্রধান নদীগুলোর ওপর প্রচলিত নিম্ন উচ্চতার সেতুর পরিবর্তে আধুনিক ও নদী-বান্ধব সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সভায় জানান হয়, ‘বাংলাদেশের গ্রামীণ সড়কে উচ্চ প্রযুক্তির সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের পিডিপিপি এর মধ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) প্রক্রিয়াধীন। এর আগে বৈদেশিক অর্থায়নে সুন্দরগঞ্জে ১৪৯০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে এলজিইডি।

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন দেশের প্রথম কেবল- স্টেড সেতুর নকশা ও প্ল্যান প্রণয়নে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করেন বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দেখা গেছে, এসব সেতু ও অবকাঠামো নির্মাণ হলে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সৃষ্টি হবে এবং তা জাতীয় জিডিপি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চায়না সরকারের আর্থিক সহায়তায় প্রস্তাবিত ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে :এক. বাংলাদেশের গ্রামীণ সড়কে উচ্চ প্রযুক্তির সেতু নির্মাণ প্রকল্প। দুই. গ্রামীণ সড়ক সংযোগকারী সেতু নির্মাণ প্রকল্প। তিন. গ্রামীণ-শহর সংযোগকারী সেতু নির্মাণ প্রকল্প। চার. গ্রামীণ সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তা ও আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি প্রকল্প। পাঁচ. ক্ষুদ্র পানি অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প ছয়. বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি উন্নয়ন সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প।

এসব প্রকল্পের আওতায় ২০০-৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৬০-৭০ টি এবং ৩০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের ৫০-৬০ টি সেতু নির্মাণের প্ল্যান রয়েছে। পাশাপাশি পুরনো সেতুর কাঠামোগত স্থায়িত্ব বৃদ্ধি এবং বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নির্মাণ করা হবে।

সভায় সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের গ্রামীণ অঞ্চলগুলো জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবাহের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত হবে। একই সঙ্গে শহর-গ্রামের সংযোগ বৃদ্ধি, নৌপথের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তাই ভবিষ্যৎ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে জরুরি ভিত্তিতে এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ ও প্রস্তাবিত তহবিল অনুমোদনের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT