সুনামগঞ্জ শহরের পশ্চিম বাজারে একসময় গেলে শোনা যেত কামারের টুংটাং শব্দ। বিশেষ করে কোরবানির ঈদেও আগে এই শব্দ বেড়ে যেত। বয়োজ্যেষ্ঠরা লোহা পেটানোর এই টুং টাং শব্দের সাথে অনেক পরিচিত থাকলেও বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছে এটি গল্প।
কয়লার আগুনের তাপে আর কামারের ঘামে ভেজা হাতের হাতুড়ির আঘাতে রূপ পেত দা, বটি, কুড়াল, কাঁচি, ছুরি সহ নানান প্রয়োজনীয় উপকরণ। আধুনিকতার ছোঁয়া আর অনলাইন পণ্যের সহজলভ্যতায় এখন সেই টুং টাং শব্দ প্রায় স্তব্ধ। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প বিলুপ্ত প্রায়।
সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদ আসলে কয়েক গুণ ব্যস্ততা বেড়ে যেত কর্মকারদের। সারা বছরের জীবিকার যোগান হতো কুরবানীর ছুরি, চাপাতি, দা ইত্যাদি বানানোর মজুরিতে। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি কুরবানির ঈদের। তবুও ব্যস্ততা নেই শহরের কামারের দোকানে। অনেক খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া গেছে দু তিনটি দোকান। কয়লার দাম বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তির সরঞ্জামের কদর বাড়ায় হারিয়ে যাচ্ছে পেশাটি।
সরেজমিনে কামারপাড়ার ব্যস্ততা খুঁজতে গিয়ে পাওয়া যায় নি আগের দোকানগুলো। একটি দোকানে গিয়ে দেখা যায় করাতকলের পুরাতন করাতের দাঁত কেটে দিচ্ছেন কামারি। নেই কোরবানির ঈদ কেন্দ্রিক কোন ব্যস্ততা। দোকানে পাওয়া যায়নি ছুরি, চাপতি জাতীয় কিছু। আছে শুধু কয়েকটি দা, কাঁচি, কুড়াল, কুচা।
কর্মকার জগদীশ দাস বলেন, আগের দিন আর নাই। আগে ঈদ এলে রাত দিন সমান তালে কাজ করেও ফুরছত পাওয়া যায় নি। এখন একটা কাজও আসে না। সবকিছু মানুষ এখন সিলেট ঢাকা থেকে নিয়ে আসে। বিভিন্ন দোকানে কিনতে পাওয়া যায় তাই নতুন বানায় না। ঈদের এক দুদিন আগে আসবে পুরাতনগুলোকে শান দেয়ার জন্য। কাজ না থাকায় দোকান কমে গেছে। পশ্চিম বাজারে ২-৩ টা আর নবীনগর আছে একটা। আর হয়তো দু একটা থাকতে পারে অন্য কোথায়। আর কয়দিন পর এগুলোও থাকবে না।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) সুনামগঞ্জের ব্যবস্থাপক এমএনএম আসিফ জানালেন, সুনামগঞ্জে কামারের সংখ্যা বা প্রতিষ্ঠান কতটা আছে এরকম কোন তথ্য তাদের কাছে নেই।