রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার শিকার সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে বুধবার (২০ মে) রাতে তার দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।
এশার নামাজের পর রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্যম শিয়ালদি গ্রামের মোল্লা বাড়ির বায়তুল আমান জামে মসজিদের আঙ্গিনায় রামিসার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রামিসার আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীসহ শত শত মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে মোল্লা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন।
নিহত রামিসা আক্তার সিরাজদিখানের মধ্যম শিয়ালদি গ্রামের মরহুম হেলাল উদ্দিন মোল্লার ছেলে হান্নান মোল্লার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পল্লবী থানার মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় একটি বাসা থেকে বের হয় রামিসা। এ সময় আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে ফুসলিয়ে তাদের ঘরে নিয়ে যান। পরে সোহেল রানা শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। নির্যাতনের একপর্যায়ে রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তার মা খোঁজ করতে এসে দরজায় কড়া নাড়েন। ধরা পড়ার ভয়ে সোহেল রানা বাথরুমের ভেতরেই শিশুটির গলা কেটে হত্যা করে।
পরবর্তীতে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে তার মাথা শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে, দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন করে এবং সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। এ সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই রুমে ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল রানা।
পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে প্রথমে সহায়তাকারী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দু'জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী এই জঘন্য ও পাশবিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি (ফাঁসি) দাবি করেছেন।