ঢাকা | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কক্সবাজারে কিশোর-কিশোরীরে প্রাণোচ্ছল প্যানেল আলোচনায়

বাল্যবিবাহ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের তরুণ প্রজন্মের সাহসী উচ্চারণ

author
জাবেদ আবেদিন শাহীন, কক্সবাজার

প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৬ সকাল ৫:৫৪
ad003
বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক অপরাধ নয়, এটি দেশের আইনের চোখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কক্সবাজার শহরে বাল্যবিবাহসহ সামাজিক নেতিবাচক রীতিনীতি চিহ্নিতকরণ এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধ ও নির্ম‚ল শীর্ষক এক প্রাণবন্ত ও দিক নির্দেশনা ম‚লক প্যানেল আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্টের আয়োজনে এই ব্যতিক্রমী প্যানেল আলোচনার আয়োজন করে।

শহরের কলাতলীর ইউনি রিসোর্টের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় এই সেমিনার শুরু হয়। ম‚লত তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার পাশাপাশি একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে এই সংলাপের স‚ত্রপাত ঘটে।

সভার শুরুতে পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে আগত এই ১০০ জন কিশোর-কিশোরীর পরিচিতি পর্ব সম্পন্ন হয়। এই পরিচিতি পর্বের মাধ্যমে প্রত্যেকেই নিজেকে পরিচয় দানের পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে নিজস্ব মতামত তুলে ধরে। অংশগ্রহণকারী সামাজিক যোগাযোগ-এর মাধ্যমে নেতিবাচক প্রভাব, মাদকাশক্তি, ইভটিজিং, লিঙ্গ বৈষম্য এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রতি মানসিক চাপ নিয়েও মতামত তুলে ধরে। 

অনেক কিশোরী জানায়, এখনও সমাজের বিভিন্ন জায়গায় মেয়ের মতামতের চেয়ে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতাকে বেশি গুরুত্ব ওেয়া হয়। আমাদেরও ডাক্তার, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, সাংবাদিক কিংবা প্রশাসক হওয়ার স্বপ্ন আছে। পরিবার যদি সহযোগিতা করে, তাহলে মেয়েরাও সমাজ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারে। অনেক কিশোর জানায়, বাল্যবিবাহ শুধু একটি মেয়ের জীবনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজের ভবিষ্যৎ উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ও আবেগময় অভিব্যক্তি উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও আয়োজকদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত এবং  দারুণভাবে আশান্বিত করে।

শুরুতেই পার্থ প্রতিম বাগচি (মোবিলাইজেশন অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেনিেনং অফিসার, ওয়ার্ল্ড ভিশন) তিনি সংস্থার লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন কিশোর কিশোরীদের একটি নিরাপদ পরিবেশ দিতে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। এই প্রজেক্টের ম‚ল উদ্দেশ্য হলো কিশোর-কিশোরীদের আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলা, যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে পারে এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে পারে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মহিলা ওই শিশু বিষয়ক অধিপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর সুব্রত বিশ্বাস বলেন, একটি মেয়ের স্বপ্ন, শিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। পরিবারকে বুঝতে হবে, অল্প বয়সে বিয়ে নয়, দক্ষতা ও শিক্ষাই সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়। সিনিয়র সাংবাদিক জাবেদ আবেদিন শাহীন গণমাধ্যমের ভ‚মিকা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক নেতিবাচক রীতিনীতি ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কলম ধরা আমার পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব। তবে শুধু আইন বা সাংবাকিতা দিয়ে এটি পুরোপুরি নির্ম‚ল সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের জাগরণ। তরুণেরা যদি সচেতন হয়, তবে সমাজের যে-কোনো অন্যায় রুখে দেওয়া সম্ভব। 

বিশেষ অতিথি বাংলাশে জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ধর্ম কখনো অন্যায়কে সমর্থন করে না। ইসলাম শিক্ষা, মানবিকতা ও নারীর মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তাই ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বাল্যবিবাহকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ অতিথি কক্সবাজার মডেল থানার পুলিশ পরির্শক মো. ইফসুফ বলেন, বাল্যবিবাহ একটি শিশুর শারীরিক, মানসিক ও শিক্ষাজীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি শুধু একটি মেয়ের স্বপ্ন ভেঙে দেয় না, বরং পুরো সমাজের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। 

বিশেষ অতিথি কক্সবাজার সরকারি অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার রাশেদুল হাসান বলেন, একটি মেয়ের স্বপ্ন, শিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। পরিবারকে বুঝতে হবে অল্প বয়সে বিয়ে নয়, ক্ষমতা ও শিক্ষাই সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়। 

পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত চমৎকার ও সাবলীলভাবে সঞ্চালন ও শুভেচ্ছা রাখেন অ্যাডভোকেসি, ক্যাম্পেইন অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি কো-অর্ডিনেটর জয়শ্রী পিউরীফিকেশন। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ ও ক্ষতিকর সামাজিক রীতিনীতি প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তরুণদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কেবল ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধি ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। 

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT