নেত্রকোণা-বারহাট্টার গোলামখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে কয়েকটি গ্রাম। প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক।
দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে শুক্রবার (২২ মে) বিকাল তিনটার দিকে বারহাট্টা উপজেলার সাধুয়ারকান্দায় মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
সম্প্রতি বারহাট্টা উপজেলার সায়দুরারকান্দা এলাকায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গোলামখলী নদীর অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার সাধুয়ারকান্দা, হাঁটখলা, চাঁনপুর, নতুন শেখেরপাড়া ও দেওপুরসহ কয়েকটি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। প্রতি বছর নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙনের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কাঁচা-পাকা সড়ক এবং বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, একাধিকবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও এখনো স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে।
তারা অবিলম্বে নদী তীরে টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। একই সঙ্গে ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবিও তোলেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল আলম চাঁন মিয়া, লিটন হোসেন, আলিম হোসেন, আলমঙ্গীর আহমেদ খোকন, আতাউর রহমান সবুজ সহ আরো শতাধিক নারী-পুরুষেরা।
এ বিষয়ে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন জানান, নদীর ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।