ঢাকা | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কার্পাসডাঙ্গায় কবি নজরুলের আটচালা ঘর

author
স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশিত : ২৩ মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬
ad003
চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের  প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিন-পশ্চিমে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা শহর।  দর্শনা-মুজিবনগর সড়কে ঐতিহাসিক স্থান কার্পাসডাঙ্গায় পরপর দু’মাস ধরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্বপরিবারে বসবাস করে গেছেন।

কার্পাসডাঙ্গায় এসে তিনি যে আটচালা ঘরে থাকতেন, কবির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ঘরটি সেভাবেই রাখা হয়েছে। কবির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য কবির জন্মদিন-মৃত্যুদিন কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয়ভাবে পালন করা হয়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনেক স্মৃতি রয়েছে চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায়। তিনি একাধিকবার এসেছেন এখানে। এখানে কবি  লিখেছেন অনেক ছড়া, কবিতা, গান।
কালকাতার আর্মহাস্ট স্ট্রিটে বসবাসকালে কবি নজরুলের সঙ্গে একই  এলাকার বাসিন্দা বৈদ্যনাথ বাবু , হর্ষপ্রিয় বিশ্বাস ও মহিম বাবুর সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে তাদের আমন্ত্রনে  ইংরেজি ১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে পর পর দু’বার  কবি নজরুল স্বপরিবারে কার্পাসডাঙ্গায় এসেছিলেন। 

সঙ্গে আসা স্ত্রী প্রমিলা,দু’পূত্র সব্যসাচী ও বুলবুল এবং শাশুড়ী গিরিবালাকে সাথে নিয়ে কবি উঠেছিলেন বর্তমান কার্পাসডাঙ্গার মিশনপাড়ার হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাগান বাড়ীর একটি আটচালা খড়ের ঘরে। এ ঘরটি এখনও বিদ্যমান। এখানে কবি দু'মাস বসবাস করে গেছেন। বর্তমানে উত্তরাধিকার সূত্রে এ ঘরটিতে হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের পূত্র প্রদ্যুত কুমার বিশ্বাসের ছেলেরা স্বপরিবারে বসবাস করছেন।

কবি নজরুলের কার্পাসডাঙ্গায় আসার মুল কারন ছিল স্বদেশী আন্দোলন। সে সময় নজরুল ইসলাম কার্পাসডাঙ্গায় স্বদেশী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত গোপনে বৈঠক করতেন। দিনের বেলা কবি ঝাউগাছের নিচে বসে গান শেখাতেন স্বদেশী আন্দোলনের নেতা মহিম সরকারের দু’কন্যা আভারানী সরকার ও শিউলীরানী সরকারকে। তারা ছিল কবির গানের ছাত্রী। অবসরে বর্তমান খৃষ্টান মিশনারী চার্চের পিছনে ভৈরব নদের পাড়ে সান বাঁধানো ঘাটের সিঁড়িতে বসে নিমগাছের ছায়াতলে তিনি এ অঞ্চলের হিন্দু-মুসলমানদের সে সময়ের চরম দারিদ্র্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে ‘মৃত্যক্ষুধা’ রচনা করেন। 

এ সময় ঝাঁউ গাছের খোঁড়লে একটি গোখরো সাপ টিয়া পাখির বাচ্চা খেতে গাছে উঠলে পাড়ার ছেলেরা সাপটিকে পিটিয়ে মারে। এতে কবি ছেলেদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে এখানে বসে রচনা করেন ‘পদ্মগোখরো’ কবিতা। এ ছাড়াও উল্লেখযোগ্য, কবির ‘লিচু চোর’ কবিতাও এই কার্পাসডাঙ্গার বাবুদের তাল ও লিচু বাগানকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছিল।

ভৈরব নদের তীরের সে সানবাঁধানো সিড়ির ধাপগুলো নদের পাড়ে এখনও বর্তমান। এই সিঁড়ির পাশে এবং যে ঝাউ গাছের নিচে বসে কবি গান শেখাতেন, সেখানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক স্মৃতি ফলক স্থাপন করা হয়েছে।

কার্পাসডাঙ্গার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ভৈরব নদ।  কবি এখানে ঘুরেছেন-বসেছেন। ভৈরবের তীরে বসে তিনি লিখেছেন অনেক গান।

কবি কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থানকালে পদ্মগোখরো লিখেছেন। ভৈরবের তীরে বসে লিখেছেন গান কোন কুলে আজ ভিড়লো তরি...। কবি যে আটচালা ঘরে থাকতেন সেই ঘরে শুধু কবির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ঘরটি সেভাবেই রাখা হয়েছে। ভৈরব নদীর তীরে চার্চ অব বাংলাদেশের স্কুল ও হাসপাতাল এলাকায় কবি যেখানে ঘুরে বেড়িয়েছেন সেসব স্থানে স্মৃতি ফলক  তৈরি করা হয়েছে কবির সম্মানে।

প্রতিবছর জাতীয়ভাবে কবির জন্মদিন ও মৃত্যুদিন নানা আনুষ্ঠানিকতায় চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায় পালন করা হয়। এ বছরও জাতীয় কবি কাজী নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত কার্পাসডাঙ্গায় কবির ১২৭ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সংস্তৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান মেলার আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন।
জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত কার্পাসডাঙ্গায় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT