কালকিনি উপজেলার ফাঁসিয়াতলা বাজার-এ মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে নুরমোহাম্মদ কাজি পালিয়ে গেলে তার ছেলে তাওহীদ কাজিকে দোকানে পেয়ে আটক করেছে থানা পুলিশ।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে ফাঁসিয়াতলা বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক তাওহীদ কাজি মাংস ব্যবসায়ী নুরমোহাম্মদ কাজির ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সাধারণত গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও নুরমোহাম্মদ ও তার সহযোগীরা হঠাৎ মাত্র ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি শুরু করেন। বাজারদরের চেয়ে কেজিতে ২০০ টাকা কম হওয়ায় স্থানীয় ক্রেতাদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে ওই মাংস থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে বাজারে উপস্থিত জনতা দোকানে গেলে নুরমোহাম্মদ কাজি পালিয়ে যান। এ সময় দোকানে থাকা তার ছেলে তাওহীদ কাজিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা স্বীকার করেন, জবাই করা গরুটি আগেই মারা গিয়েছিল। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী থানা পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাওহীদ কাজিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে অভিযুক্তের কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আলম জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফ-উল-আনেফিন মরা পশু জবাই ও মাংস বিক্রির দায়ে আইনের ২০১১ সালের ২৪(১) ধারায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ঘটনার পর থেকে ফাঁসিয়াতলা বাজারের সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বাজারে নিয়মিত ভেজালবিরোধী অভিযান ও কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছেন।